শুক্রবার , ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

 মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

ডিঃব্রাঃ ডেস্কঃ
মামলাবাজের খপ্পরে পড়ে দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে এক কলেজ শিক্ষক ও তার পরিবারের সদস্যদের জীবন। কখনো ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় না এসেও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে হওয়া একটি মানবপাচার মামলার আসামি হয়েছেন ঢাকার শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মোহা. বদরুল ইসলাম।

অবশ্য ওই মামলার বাদীরও কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। আদৌ বাদীর অস্তিত্ব আছে কি-না সেটি নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী কলেজ শিক্ষক বদরুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে ‘সাজানো মামলার’ কারণে নিজের দুর্বিষহ জীবনের বর্ণনা দেন ওই শিক্ষক।

লিখিত বক্তব্যে শিক্ষক বদরুল ইসলাম বলেন, গত ১৮ নভেম্বর আমি জানতে পারি কুলছুমা আকতার নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক নারী আমাকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলার আর্জিতে বলা হয়, আমিসহ অন্যান্য আসামিরা বাদীকে মালদ্বীপ পাঠানোর কথা বলে ভারতে পাচার করে দিই। পরবর্তীতে গত ২৪ মার্চ বাদী ভারত থেকে ফিরে আসেন এবং পাঁচ মাস পর গত ২০ আগস্ট আমার বিরুদ্ধে মানবপাচার মামলাটি দায়ের করেন।

পরবর্তীতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৩য় আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকি-আল-ফারাবী মামলার সাক্ষীদের জবানবন্দি নিয়ে তিনি নিজেই আমিসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
তিনি বলেন, মামলার বাদী ও অন্য আসামিদের কাউকেই আমি চিনি না। আমি জীবনে কখনো ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আসিনি। মামলায় কিছু তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে। ওইসব তারিখে নাকি আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এসে বাদীর সঙ্গে দেখা করেছি এবং তাকে নিয়ে ভারত সীমান্তে গিয়েছি।

ওই তারিখগুলোর মধ্যে গত বছরের ৮ নভেম্বর ও চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি আমি আমাদের কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থিত বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টাডি সেন্টারে বিবিএস ও বিবিএ প্রোগ্রামের টিউটর হিসেবে ক্লাস নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, প্রশ্ন উঠতে পারে আমি যদি উল্লিখিত ঘটনায় জড়িত না থাকি তাহলে কীভাবে মামলা দায়ের হতে পারে। এই প্রসঙ্গে আমি আমার একটা আশঙ্কার কথা বলতে চাই।
সেটি হলো- আমাদের কলেজের শিক্ষক আবু নাঈম মো. রাফি, নুরুন্নাহার বেগম, বাদল চন্দ্র অপু শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে গভর্নিং বডিতে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনকালে তারা কলেজের নামে জমি কেনাসহ বিভিন্ন ধরনের কেনাকাটা ও আর্থিক কর্মকাণ্ড করেন। ওইসব কেনাটাকাটা নিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এ নিয়ে কলেজের বড় ধরনের আন্দোলন গড়ে ওঠে। কলেজের অর্থ তসরুফের বিষয়ে আমিসহ অন্যান্য শিক্ষকরা প্রতিবাদ করি। সেজন্য ওই তিন শিক্ষক আমার উপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। কলেজ ক্যাম্পাসে আমাকে উদ্দেশ্য করে ঘোষণা দেয়া হয়েছিল ‘আমার ঘুম হারাম করে দেয়া হবে’।

মিথ্যা মানবপাচারের মামলার কারণে সত্যি সত্যি এখন আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। মামলার কারণে আমি কিছুদিন বাড়িতেও থাকতে পারিনি।

বদরুল ইসলাম বলেন, মানবপাচারের মতো চাঞ্চল্যকর বিষয়ে কাল্পনিক অভিযোগ এনে মিথ্যা মামলা দায়েরের কারণে আমি সামাজিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমার ও আমার পরিবরের সদস্যদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। মামলায় উল্লেখিত ঘটনার সঙ্গে আমার দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই।

আমি এখন আশঙ্কা করছি মামলাবাজ চক্রটি আমার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা দিতে পারে। আমি এই মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি চাই, পরিবার নিয়ে শান্তিতে বাঁচতে চাই।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক বদরুল ইসলামের সঙ্গে তার স্ত্রী ও দুই সন্তান উপস্থিত ছিলেন।

digital

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *