মঙ্গলবার , ১১ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,২৮শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ভিক্ষুকের ত্রান আত্মসাৎ করেও আওয়ামীলীগ নেতা শাহআলম পেল সমাজসেবা পুরস্কার

 ভিক্ষুকের ত্রান আত্মসাৎ করেও আওয়ামীলীগ নেতা শাহআলম পেল সমাজসেবা পুরস্কার

ডিঃব্রাঃ ডেস্কঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহামারি করোনাভাইসের দুর্যোগকালে অসহায়দের জন্য সরকারের দেয়া ওএমএস কার্ডে ভাগ বসানো ‘সামর্থ্যবান’ আওয়ামী লীগ নেতা মো: শাহ আলমকে এবার সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা জানানো হয়েছে। সমাজসেবা দিবস উপলক্ষ্যে গত শনিবার (২ জানুয়ারি) শাহ আলমের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়।

ভিক্ষুক, ভবঘুরে শ্রেনীর লোকজনের ওএমএস কার্ডে ভাগ বসিয়ে বিতর্কিত হওয়া শাহ আলমকে সম্মাননা জানিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছে সমাজসেবা কার্যালয়। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওএমএস কেলেঙ্কারির বিষয়টি আগে থেকে না জানার কারণে এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

জেলা আওয়ামীলীগের শিল্প ও বানিজ্য সম্পাদক মোঃ শাহআলম করোনা পরিস্থিতিতে সরকারের দেয়া বিশেষ ওএমএস কেলেংকারীতে আলোচিত হন। জেলা শিল্প ও বনিক সমিতির পরিচালক পদে থাকা এই নেতা ভিক্ষুক, ভবঘুরে শ্রেনীর লোকজনের বদলে নিজের স্ত্রী, কন্যাসহ ১৩ স্বজনের নাম তালিকাভূক্ত করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তুমুল সমালোচনার মুখে গত ১৩ মে জেলা ওএমএস কমিটির সভায় শাহ আলমের ওএমএস ডিলারশিপ বাতিল করা হয়।

ডিলারশিপ বাতিলের বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, ওএমএস কার্ডের তালিকায় পরিবার ও স্বজনদের নাম ওঠানোর ব্যাপারে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় শাহ আলমের ওএমএস ডিলারশিপ বাতিল করা হয়।

টিসিবি’র ডিলার হিসেবেও ভোক্তাদের বঞ্চিত করার অভিযোগ ছিলো তার বিরুদ্ধে। করোনা পরিস্থিতিতে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট (জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার) সন্দ্বীপ তালুকদারের নেতৃত্বে শহরের কাউতলী মসজিদপাড়ার লোকমান হোসেনের(৪৫) দোকান সংলগ্ন বাসায় অভিযান চালিয়ে টিসিবি’র মালামাল পাওয়া যায়। তার বাসা থেকে জব্দ করা মালামালের মধ্যে রয়েছে ২৪ বস্তায় থাকা ১২’শ কেজি চিনি, ৪বস্তা (২’শ কেজি)মশুরী ডাল এবং ৩ বস্তায় থাকা দেড়শো কেজি ছোলা বুট।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পদ দখলে নিয়ে অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এই নেতার বিরুদ্ধে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেডক্রিসেন্ট ইউনিটের সর্বশেষ কার্যকরী কমিটির সাধারন সম্পাদক। সর্বোচ্চ ব্যবসায়িক সংগঠন এফবিসিসিআই’র সদস্য পদও রয়েছে তার। জেলা রেস্তোরা মালিক সমিতির নেতা হিসেবে ব্যবসায়িক বিভিন্ন সংগঠনে জায়গা করে নিলেও তার নিজের কোন হোটেল-রেস্তোরা না থাকার অভিযোগ রয়েছে। তারপরও তিনি জেলা রেস্তোরো মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদ আগলে রেখেছেন বেশ ক’বছর ধরে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য, জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতির সাধারন সম্পাদক, সুইড ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কাউতলী শহীদ লুৎফুর রহমান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতির পদও তার দখলে। এইচএসসি পাশ হয়ে তিনি এই পদ দখল করে রেখেছেন। জেলা জামে মসজিদ কমিটির যুগ্ম সম্পাদক পদেও রয়েছেন তিনি। নিজ গ্রাম কাউতলীর ঈদগাহ মাঠের প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক, কাউতলী কবরস্থান কমিটির সাধারন সম্পাদক শাহআলম। আর তাতেই অনিয়মে বেপড়োয়া হয়ে উঠেন।

তবে শনিবার সমাজসেবার জন্য শাহ আলমকে সম্মাননা জানানো হয়। জেলা প্রশাসক হায়াত উদ-দৌলা খান সমাজসেবার সম্মাননা তুলে দেন শাহ আলমের হাতে। পরে শাহ আলম নিজেই তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে সম্মানা পাওয়ার বিষয়ে পোস্ট করেন। এই পোস্ট দেয়ার পরপরই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

সম্মাননা নেয়ার ব্যপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ নেতা শাহ আলম বলেন, ‘আমি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন সমাজকর্মী। সমাজসেবা কার্যালয় থেকেই আমাকে এই সম্মাননার জন্য বাছাই করা হয়েছে। একটি দুষ্টচক্র রাজনৈতিকভাবে হেয় করার জন্য আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।’

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাসুদুল হাসান তাপস বলেন, ‘উনি (শাহ আলম) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষিত একজন সমাজকর্মী। পাশাপাশি আমাদের শিশু পরিবার ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য। ওএমএস ডিলারশিপ বাতিলের তথ্যটি আমাদের জানা ছিল না। করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের তাড়াহুড়ার মধ্যে অনুষ্ঠান করতে হয়েছে। যদি আমরা আগে থেকে জানতাম, তাহলে হয়তো তার নামটি আসতো না।’

digital

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *