শুক্রবার , ২৫শে জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,১১ই আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হৃদয় দাসের মৃত্যু নিয়ে রহস্য

 ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হৃদয় দাসের মৃত্যু নিয়ে রহস্য

ডিঃব্রাঃ ডেস্কঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হৃদয় দাস (১৯) নামের এক তরুণের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ৭ জুন সোমবার সকালে জেলা শহরের মধ্যপাড়ায় ব্যবসায়ী সমর পালের বাড়ি থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তরুণের মরদেহটি উদ্ধার করে সদর মডেল থানা পুলিশ। সমর পালের বাড়িতে থেকে তার দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন হৃদয়। হৃদয়ের মরদেহটি উদ্ধারের পর ব্যবসায়ী সমর পালের পরিবারের দাবি, হৃদয় ফাঁসিতে ঝুঁলে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু হৃদয়ের স্বজনদের দাবি এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হৃদয় পাল জেলার নাসিরনগর উপজেলা সদরের মাকালপাড়া গ্রামের গৌর মন্দিরের এলাকায় মৃত সন্তোষ দাসের ছেলে।

হৃদয় পালের আপন মামা সুভাষ চন্দ্র দাস অভিযোগ করে বলেন, আমার ভগ্নিপতি ছিলেন পেশায় মাছ ধরার জেলে। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। এরমধ্যে মেয়েটিকে বিয়ে দিয়েছেন গত ৪বছর আগে। তার দুই ছেলের মধ্যে ছোট ছেলেটির বয়স ৮বছর, আর হৃদয় উঠতি বয়সের। ভগ্নিপতি গত প্রায় এক বছর আগে মারা গেছেন। বড় ছেলে হিসেবে ছোট ভাই ও মায়ের সব দায়িত্ব হৃদয়ের উপর। পড়ালেখা তেমন না জানায় জেলা শহরের জগৎ বাজারের সমর পালের মুদিমালের দোকানে কাজ করতো। রাতে ঘুমাতো সমর পালের বাড়িতেই। গত শুক্রবার সে নাসিরনগরে মা-ভাইকে দেখতে যায় হৃদয়। পরদিন শনিবার বাজার বন্ধ থাকায় সে শহরে আর ফিরেনি। রোববার বিকেলে সে শহরে ফিরে আসে। সোমবার সকাল ৭টার দিকে একজন ফোন দিয়ে জানায় হৃদয়ের শরীর খারাপ আমি গিয়ে নিয়ে আসতে। তখন আমি ভেবে পাচ্ছিলাম না, আগের দিন ভাগ্নে গেল, অথচ আজই আমাকে গিয়ে নিয়ে আসতে বলল কেন! দ্রুত আমি সিএনজি নিয়ে সমর পালের বাড়িতে যায়। সেখানে গিয়ে দেখি অসংখ্য মানুষ। ঘরে ঢুকতেই পাখার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখি ভাগ্নের মরদেহ’।

তিনি আরও বলেন,’ তার মরদেহটি যে অবস্থায় ছিল তা কখনোই আত্মহত্যা হতে পারে না। তার শরীর একেবারে নগ্ন ছিল। পায়ের হাটুর নিচে সোফার কুশন ছিল। হাটু বাঁকা হয়ে দুইটি কুশনের উপর, কিন্তু কোশন একটিও নড়েনি। বৈদ্যুতিক পাখার একটি ব্লেডে ৭৩কেজি ওজনের একটি ছেলে কিভাবে ঝুলতে পারে? আমরা এর ছবি তুলে রেখেছি। ছবিতেও স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

সুভাষ দাস আরও বলেন,’এর আগেও দোকানে আমার ভাগ্নের সাথে তারা খারাপ ব্যবহার করতেন। সমর পালের ভাই সঞ্জয় পাল দোকানে কেউ না থাকলে ক্যাশ বাক্স থেকে টাকা চুরি করতেন। হৃদয় তা দেখে সমর পালের কাছে জানিয়েছিল। এই বিষয়টি নিয়ে সঞ্জয় ক্ষুব্ধ ছিল। হত্যাকাণ্ডের পর বিষয়টি চাপা দিতে তারা উঠেপড়ে লেগেছে। বিভিন্ন জায়গায় বিপুল অংকের টাকা ব্যয় করছে। দরিদ্র নিরীহ পরিবারের ছেলে বলে আমরা কি হৃদয় হত্যার বিচার পাববো না? আমরা এই ঘটনায় মামলা দিতে থানায় গিয়েছিলাম। সদর থানায় রাতদিন যাচ্ছি কিন্তু মামলা নিচ্ছেন না’।

এদিকে, হৃদয়ের মরদেহ ঝুঁলন্ত থাকার ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন অনেকে। তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

এই বিষয়ে কথা বলতে ব্যবসায়ী সমর পালের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমরানুল ইসলাম এই বিষয়ে বলেন ‘ লাশ উদ্ধারের পর একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর বলা যাবে। ভিকটিমের পরিবারের লোকজন আজ থানায় এসেছিল। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আমাদের হাতে যেন নিয়ে আসতে পারি। রিপোর্ট আসার পর দ্রুত এই ঘটনায় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মোঃনিয়ামুল আকঞ্জিঃ স্টাফ রিপোর্টারঃ

digital

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *