ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৭ ভাগ মানুষ করোনার প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন। কসবা উপজেলার ৫০ ভাগ মানুষ টিকা নিয়েছেন। সবচেয়ে কম ৪২ ভাগ টিকা নিয়েছেন জেলার সরাইল ও নবীনগর উপজেলার মানুষ। দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন ২৭ ভাগ মানুষ। সবচেয়ে বেশি আশুগঞ্জের ৩২ ভাগ ও সবচেয়ে কম সরাইলের ২২ ভাগ মানুষ দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন।
এদিকে জেলায় গত ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত চার হাজার ৫৮৭ জন বোস্টার ডোজের টিকা নিয়েছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলাতে সবচেয়ে বেশি এক হাজার ৩২৬ জন টিকা বোস্টার ডোজ নেন। সবচেয়ে কম ১৩৩ জন বোস্টার ডোজ নিয়েছেন সরাইল উপজেলায়। টিকা নেওয়ার জন্য অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করেছেন মোট জনসংখ্যার ৩৯ ভাগ মানুষ। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র থেকে এসব তথ্য মিলেছে। সূত্র মতে, চলতি মাসে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলছে। তবে কেউ মারা যাননি। সোমবার পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৮১ জন। আক্রান্তের সংখ্যা ১২ হাজার ৬৫৬ জন। জেলার বিভিন্ন কেন্দ্র গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ডোজ টিকা নেওয়ার জন্য লোকজন ভিড় করছেন। সকাল থেকেই এসব কেন্দ্রে ভিড় দেখা যায়। দুপুর পর্যন্তও লোকজনকে টিকা নিতে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বোস্টার ডোজের টিকা দেওয়া হচ্ছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় মোট জনসংখ্যা ৩৩ লাখ ৫৮ হাজার ৫১০ জন। প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছেন ১৫ লাখ ১৯ হাজার ৬৫৯ জন। এর মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দুই লাখ ৬৬ হাজার। ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত টিকা নেওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন ১২ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩১ জন, যা মোট জনসংখ্যার শতকরা ৩৯ ভাগ। টিকা নিতে শিক্ষার্থীদেরকে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়নি। সূত্রটি আরো জানায়, আখাউড়ার ৪৭ ভাগ, সরাইলের ৪২ ভাগ, নবীনগরের ৪২ ভাগ, কসবার ৫০ ভাগ, সদরের ৪৬ ভাগ, বাঞ্ছারামপুরের ৪৬ ভাগ, নাসিরনগরের ৪৪ ভাগ, আশুগঞ্জের ৪৯ ভাগ, বিজয়নগরের ৪৬ ভাগ মানুষ ইতিমধ্যেই প্রথম ডোজের টিকা নিয়েছেন। দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিয়েছেন আখাউড়ার ৩১ ভাগ, সরাইলের ২২ ভাগ, নবীনগরের ২৪ ভাগ, কসবার ৩১ ভাগ, সদরের ২৫ ভাগ, বাঞ্ছারামপুরের ২৯ ভাগ, নাসিরনগরের ২৫ ভাগ, আশুগঞ্জের ৩২ ভাগ ও বিজয়নগরের ২৬ ভাগ মানুষ দ্বিতীয় ডোজের টিকা নেন। আখাউড়ার ৩৬৬ জন, সরাইলের ১৩৩ জন, নবীনগরের ৬৩৮ জন, কসবার ২৭৬ জন, সদরের ১৩২৬ জন, বাঞ্ছারামপুরের ৮২২ জন, নাসিরনগরের ১৬০ জন, আশুগঞ্জের ৬৩৩ জন, বিজয়নগরের ২৩৩ জন ২২ জানুয়ারি নাগাদ বোস্টার ডোজের টিকা নিয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. একরাম উল্লাহ বলেন, অসচেতনতার কারণে জেলায় করোনা সংক্রমণ বেড়ে চলছে। পাশাপাশি এখন টিকা নেওয়ার হারও বেড়েছে। তৃতীয় ডোজ নিতেও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন লোকজন। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত টিকা রয়েছে।

মোঃনিয়ামুল ইসলাম আকন্ঞ্জি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here