সোমবার , ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়ম লঙ্ঘন করে নির্মিত ৪টি অবৈধ সাঁকোর ২টি অপসারণ

 ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়ম লঙ্ঘন করে নির্মিত ৪টি অবৈধ সাঁকোর ২টি অপসারণ

ডিঃব্রাঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়ম লঙ্ঘন করে শহরের প্রধান খালের ওপর নির্মিত চারটি অবৈধ সাঁকোর দুটি অপসারণ করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার পৌরসভার শ্রমিকেরা শহরের কান্দিপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগের নেতার বাড়ির সামনের দুটি সাঁকো ভেঙে দেন।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ১ আগস্ট পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী নিকাশ চন্দ্র মিত্র অবৈধ সাঁকো নির্মাণকারী তিনজনকে চিঠি দেন। চিঠি পাওয়ার পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নিজ নিজ খরচে কাঠ-বাঁশের এসব স্থাপনা অপসারণ করতে আওয়ামী লীগ নেতাসহ তিন প্রভাবশালী ব্যক্তিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
চিঠি পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন কান্দিপাড়া এলাকার (মাইমলপাড়া) বাসিন্দা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, একই এলাকার শাহজাহান মিয়া। এ ছাড়া অন্য দুটি সাঁকোর জন্য উত্তর পৈরতলা (সেতুসংলগ্ন) আল-নূর পিয়ারা জামে মসজিদ কমিটিকে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু চিঠি পাওয়ার পর তিন দিন পার হলেও কেউই খালের ওপর থেকে সাঁকো সরাননি।

এদিকে ৫ আগস্ট জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা রতিশ চন্দ্র রায়, সহযোগী জরিপকারী রজব আলী খাল পরিদর্শন করেন। তাঁরা তিন দখলদারকে অবৈধ সাঁকো অপসারণের অনুরোধ করেন। এ ছাড়া জেলা পরিষদ আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের প্রধান খালটির মালিকানা জেলা পরিষদের। শহরের প্রধান খালের ওপর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), সড়ক ও জনপথ (সওজ), পৌরসভা ও জেলা পরিষদের নির্মাণ করা সাতটি সরকারি সেতু রয়েছে। এরপরও খালের ওপর নিজেদের চলাচলের সুবিধার জন্য আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলামসহ স্থানীয় লোকজন চারটি কাঠ-বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন। এ ছাড়া খালের জায়গা দখল করে বাড়িঘর নির্মাণ ও সীমানা বাড়িয়েছেন অন্য নয়জন। জেলা পরিষদ নয়জন দখলদারের একটি তালিকাও তৈরি করেছে।

পৌরসভার চিঠি সূত্রে জানা গেছে, শহরের প্রধান খালের ওপর সাঁকো নির্মাণ নিয়ে সংবাদপত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এবিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আসে। সাঁকো নির্মাণের ফলে বর্ষাকালে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নৌযান চলাচলে মারাত্মক বাধার সৃষ্টি হবে। সাঁকোর খুঁটিতে ভাসমান কচুরিপানা আটকে পানিপ্রবাহে মারাত্মক বাধার সৃষ্টি হবে। জরুরি ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে নিজ দায়িত্বে এবং নিজ খরচে কান্দিপাড়া ও টানবাজার এবং উত্তর ও পৈরতলা এলাকায় খালের ওপর নির্মিত সাঁকো তিন দিনের মধ্যে অপসারণে চিঠিতে তিন ব্যক্তিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে নয়টায় কান্দিপাড়া-টানবাজার এলাকায় সরেজমিন দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলামের বাড়ির সামনের সাঁকো অপসারণে কাজ করছেন শ্রমিকেরা। বেলা দুইটা থেকে তিনটা পর্যন্ত দ্বিতীয় দফায় সরেজমিন দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতার বাড়ির সামনের সাঁকো অপসারণ করা হয়েছে। একই এলাকার প্রভাবশালী শাহজাহান মিয়ার বাড়ির সামনের সাঁকোর প্রায় অর্ধেক অপসারণ করা হয়েছে। অপসারণের কাজ তখন চলছিল।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী কাউসার আহমেদ বলেন, সকাল থেকে শ্রমিকেরা সাঁকো অপসারণে কাজ শুরু করেন। দিনভর কাজ করে কান্দিপাড়া এলাকার দুটি সাঁকো অপসারণ করা হয়েছে। শনিবার পৈরতলা এলাকার দুটি সাঁকো অপসারণ করা হবে।

মোঃনিয়ামুল ইসলাম আকন্ঞ্জিঃ

digital

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *