মঙ্গলবার , ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

ব্যর্থ প্রশাসন এখনো বহাল: হোয়াইট নিউজের ভার্চুয়াল টক শো তে মোকতাদির চৌধুরির ক্ষোভ

 ব্যর্থ প্রশাসন এখনো বহাল: হোয়াইট নিউজের ভার্চুয়াল টক শো তে মোকতাদির চৌধুরির ক্ষোভ

ডিঃব্রাঃ ডেস্কঃ
২৬ মার্চ। সরকারি-বেসরকারিভাবে পালিত হচ্ছে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠান। হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে পড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া। লাঠিসোটা হাতে চলে তান্ডব। করা হয় অগ্নিসংযোগ। এ অবস্থা চলে তিন দিন। ২৮ মার্চের তান্ডবে লন্ডভন্ড হয়ে যায় দেশের অন্যতম এ জেলা শহরটি।

একমাসেও আগের মতো করে দাঁড়াতে পারেনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া। বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সেবা প্রদান বন্ধ রয়েছে। স্টেশন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ট্রেন চলাচলও বন্ধ করে রাখা হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে ক্ষতিগ্রস্থরাও এখন পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়াতে পারেন নি।

তান্ডব দমাতে প্রশাসনের ব্যর্থতার কথা আলোচনা হয় শুরু থেকেই। তান্ডব পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার বিষয়েও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। রবিবার সকাল নাগাদ ৩৫৯ জন গ্রেপ্তার হলেও দুই ইমাম ছাড়া উল্লেখযোগ্য কাউকে এ তালিকায় দেখা যায় নি। ব্যর্থ ওই প্রশাসন এখনো রয়েছে বহাল। এ নিয়ে ক্ষোভ দিনকে দিন বাড়ছে।

এদিকে তান্ডবের এক মাস সময়ের কাছে এসে রবিবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল হোয়াইট নিউজ টুয়েন্টি ফোর ডটকম এর ভার্চুয়াল লাইভ অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য র. আ. ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ঘটনার সময় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে শুরুর সময়ের মতো এখনো প্রশ্ন তুলেন। পাশাপাশি লাঠিসোটা হাতে তুলে দেয়া মাদ্রাসাগুলোতে যেন কোনো ধরণের সহায়তা না করা হয় সে আহবানও তিনি জানান।
বাচিক শিল্পী মনির হোসেনের পরিচালনায় হোয়াইট নিউজ টুয়েন্টি ফোর ডটকম এর ভার্চুয়াল লাইভ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রহিম বিজন, সাহিত্য একাডেমীর সভাপতি কবি জয়দুল হোসেন, আইডিয়াল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ সোপানুল ইসলাম সোপান, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড.লোকমান হোসেন, প্রেসক্লাবে সাবেক সাধারণ সম্পাদক দিপক চৌধুরি বাপ্পি, মহিলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাত, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক এ এস আর এম ওসমান গনি সজিব, সমাজকর্মী মমিনুল ইসলাম বাবু, সময় টিভির স্টাফ রিপোর্টার উজ্জল চক্রবর্তী, যমুনা টিভির জেলা প্রতিনিধি সফিকুল ইসলাম, প্রথম আলোর প্রতিনিধি শাহাদাত হোসেন, নারী নেত্রী নন্দিতা গুহ, বাউনবাইরার কতা সংগঠনের সভাপতি ডা.মাহাবুবুর রহমান এমিল, ডা.পাবেল, ঢাকা পোস্টের প্রতিনিধি আজিজুল সঞ্চয়, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল, সিনিয়র সহ সভাপতি সুজন দত্ত ড্রিম ফর ডিজিবিলিটির সভাপতি হেদায়েতুল আজিজ মুন্না, প্রভাষক দ্বিপ রায় প্রমূখ

এদিকে হেফাজত ইসলামের তান্ডবের ঘটনায় গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে ধীরে চলো নীতি নেয়া হয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানায়। প্রাথমিকভাবে ভিডিও ফুটেজে থাকা সরাসরি হামলায় অংশগ্রহনকারিদেরকে গ্রেপ্তারের আওতায় আনা হবে। পরবর্তীতে ইন্দনদাতাসহ অন্যান্যদেরকেও ধরা হবে। তবে সেটা হবে যথেষ্ট প্রমাণ ও সময় সাপেক্ষ।

তান্ডবের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে নজর দেয়া হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও ম্যাসেঞ্জারে। ইতিমধ্যেই এসবের মাধ্যমে সংগঠিত হওয়ার বেশ কিছু তথ্য পুলিশের কাছে এসেছে। এগুলো যাচাই-বাছাই করে জড়িতদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।

এদিকে ‘অভিযুক্তদেরকে’ ধরতে প্রতিদিনই গ্রেপ্তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। শনিবার সকাল থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত গ্রেপ্তারের সংখ্যা ছয় জন। এ নিয়ে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা গিয়ে দঁাড়ালো ৩৫৯ জন এ। যদিও গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে হেফাজত ইসলামের উল্লেখযোগ্য কোনো নেতা নেই। যদিও শীর্ষ নেতাদের ধরতে একটি তালিকা করা হয়েছে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

তান্ডবের নিন্দা জানিয়ে সংগঠনের কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন হেফাজত ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সদস্য মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী। এ নেতার পদত্যাগ তান্ডবে হেফাজতের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলে অভিযোগ এনে জেলা ছাত্রলীগের এক বিবৃতিতে হেফাজত ইসলামের জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারন সম্পাদককে গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।

অপরদিকে বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ি অন্তত ১৫-২০টি ফেসবুক আইডি থেকে ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত হামলার উস্কানি দেয়া, গুজব ছড়ানোর কাজটি করা হয়। এসব আইডি থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেয়ার গুজব ছড়ানো হয়। কোনো কোনো আইডি থেকে বলা হয়, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফসহ আইনশৃংখলাবাহিনী গণহত্যার প্রস্তুতি নিয়েছে। পুলিশের দেহ থেকে মাথা আলাদা করে দেয়া হয়েছে।

তান্ডবের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ডানে একজন এসে বলছেন গুলি শেষ। বামেও আরেকজন বলছেন একই কথা। এ অবস্থায় সবাইকে মানসিকভাবে না ভেংগে পড়ার জন্য বললাম। কৌশল নিলাম বেশি বেশি হুংকার ছাড়ার। সেই কৌশল অনুযায়ি হুংকার ছেড়েই বিক্ষোভকাদিরকে মোকাবেলা করা হয়।’ ২৭ মার্চ কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে হেফাজতের বিক্ষোভের সময় এমন অবস্থার মুখোমুখি হতে হয় বলে জানান তিনি।

তিক্ত আরেক অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে পুলিশের আরেক কর্মকর্তা বলেন, ‘এক শিশুকে দেখি আমাদের দিকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়ছে। কাছে গিয়ে না পারি তাকে মারতে না পারি ধরতে। তাকে আমি সরে যাওয়ার কথা বললেও সেটা না করে সে উল্টো আমাকে লক্ষ্য করে আক্রমন করতে থাকে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন, ‘হামলাকারি প্রত্যেককেই গ্রেপ্তারের আওতায় আনা হবে। আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারিদের শনাক্ত করছি। এছাড়া আরো কিছু বিষয় নিয়ে আমাদের কাজ চলছে।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে আসার প্রতিবাদে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত তিনদিন হেফাজতের কর্মসূচি চলাকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক তান্ডব চালানো হয়। হামলা ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্থ হয় শতাধিক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর। সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের। তান্ডবের সময় হওয়া সংঘর্ষে মারা যায় অন্তত ১৩ জন।

digital

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *