বৈশ্বিক এই মহামারিতে কর্মহীন অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতে হবে আমাদের সবাইকে।

0

(সমকালিন বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা-পর্ব পাঁচ)

বৈশ্বিক এই মহামারিতে কর্মহীন অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়াতে হবে আমাদের সবাইকে।

মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ

আজ মহান মে দিবস মহান।মানব সভ্যতা বিনির্মাণের প্রতিটি পরতে পরতে যাদের শ্রম আর ঘাম জড়িত, সেই সমস্ত শ্রমিকদের ত্যাগের কথা স্মরণ করার দিন আজ। দেশে-দেশে কালে-কালে সকল শ্রমজীবী মানুষ নিজেদের অধিকার আদায়ের যে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন, সেই সংগ্রামের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করার দিন আজ।

শ্রমিকদের রক্ত পানি করা পরিশ্রমের বিপরীতে মালিকপক্ষগণ সম্পদের পাহাড় গড়েন।নিজেদের বিপদে-আপদে সেইসব সম্পদ তারা শুয়ে বসে ভোগ করে খেতে পারেন।কিন্তু শ্রমিকদের বেলায় সেই সুযোগ থাকে না।শ্রমিকদের দৈনিক শ্রমই তাদের পেটে দুবেলা আহার জোগায়, মাথা গোজার আশ্রয় জোগায়, লজ্বা নিবারণের পোশাক জোগায়, চিকিৎসার ব্যয় জোগায়। শ্রমই তাদের ধর্ম, শ্রমই তাদের কর্ম, শ্রমই তাদের সুখ দুঃখের চিরোসাথী।

এই শ্রমিকদের রক্তঝরা; ঘামঝরা, ফোসকা পড়া হাত কখনো মানুষের কাছে সাহায্য চাইতে উত্থিত হয়না। শ্রমিকদের পা কখনো সাহায্যর জন্য বাড়ায় না। শ্রমিকদের মুখ কখনো সাহায্যর জন্য কোন শব্দ উচ্চারণ করে না।কিন্তু দুঃখের বিষয় বিগত ১৩৪ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ও কঠিন মুহূর্ত পার করছে বিশ্বের সকল শ্রমজীবি মানুষ। আজ তাদের কর্মক্ষম দুটি হাত নিষ্ক্রিয়। একইসাথে নিষ্ক্রিয় তাদের জীবন স্পন্দন। জীবন যেন থমকে গেছে ভয়াল করোনার প্রাণঘাতী আঘাতে।

আজ তারা নিতান্তই অসহায়।শ্রমই যেখানে নিষিদ্ধ, সেখানে বেঁচে থাকার জন্য তাদের আর কিছুই করার থাকে না।অন্যর সাহায্য ছাড়া তাদের বেঁচে থাকা আজ অসম্ভব। তাই এসব শ্রমিকদের পাশে আজ দাঁড়াতে হবে রাষ্ট্রকে, শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে হবে মালিকদেরকে, শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে হবে জনপ্রতিনিধিদের, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের, সমাজের বিত্তবান মানুষদের।নিজ নিজ সাধ্য অনুযায়ী তাদের পাশে আজ দাঁড়াতে হবে আমাদের সবাইকে।

বৈশ্বিক এই মহামারিতে কর্মহীন অসহায় মানুষের পাশে এসে দাড়ান। আপনার সামান্য সহযোগিতা তাদের একটু ভালোভাবে বাঁচতে সহযোগিতা করবে। এর বিনিময়ে আপনি মনে যে প্রশান্তি পাবেন। সেই শান্তি আপনার আলিশান বাড়ি, দামি গাড়ি, খাট-পালঙ্ক শোফায় শুয়ে বসেও পাবেন না। আর মহান আল্লাহ নিশ্চয় এর দানের উত্তম প্রতিদানও আপনাকে দিবেন।

শ্রমিকদের পদচারণায় আবার প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসুক নিস্তব্ধ এই পৃথিবীতে।তাদের শরীর আবার ঘেমে উঠুক তপ্ত রোধে।সে ঘাম শুকিয়ে যাক প্রশান্তির বাতাসে।তাদের মুখে ফুঁটে উঠুক উদরপূর্তির তৃপ্ত হাসি।গাছে গাছে পাখিদের কলতানের পাশাপাশি কলকারখানায় বেজে উঠুক যন্ত্রের গান।হাত হাত ধরে এগিয়ে যাক প্রকৃতি ও মানব সভ্যতার মেলবন্ধন।এই প্রত্যাশায়।

লেখকের সাথে ব্যক্তিগত মতামতের যোগাযোগ

[email protected]

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে