বৃহস্পতিবার , ২৮শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,১২ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে জীবন দিলেন সোনিয়া।

 প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে জীবন দিলেন সোনিয়া।

ডিঃব্রাঃ
নিজের চেয়ে ৪ বছরের ছোট প্রেমিকের সাথে প্রেমের টানে ঘর ছেড়ে জীবন দিলেন প্রেমিকা সোনিয়া আক্তার (২০)। এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের কাউতলীতে অবস্থিত দি-আল ফালাহ্ মেডিক্যাল সেন্টারে। অন্য ছেলের সাথে প্রেম সন্দেহ করা নিয়ে প্রেমিকের সাথে অভিমান করে কেঁরি পোকা মারার ট্যাবলেট খেয়ে সোনিয়া আক্তার (২০) নামের এক সহকারী নার্স ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

সোনিয়া আক্তার নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণ ইউনিয়নের ব্রাহ্মণশাসন গ্রামের আজিজুর রহমানের মেয়ে। সোনিয়া জেলা শহরের দি-আল ফালাহ্ মেডিক্যাল সেন্টারে সহকারী নার্সের কাজের পাশাপাশি একটি কলেজে পড়াশোনা করতেন। এই ঘটনায় প্রেমিক শীতল কাজীকে আটক করেছে পুলিশ। শীতল কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের নেমতাবাদ গ্রামের কাজী বাড়ির সেলিম কাজীর ছেলে। শীতল নেমতাবাদ আয়েশা হাবিব উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেনীর ছাত্র ছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোনিয়া আক্তার ২০১৮ সালের মার্চ মাসের ২০ তারিখে দি-আল ফালাহ্ মেডিক্যাল সেন্টারে সহকারী নার্সের পদে যোগদান করেন। হাসপাতালের পাশেই অবস্থিত রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্রাবাসের গার্ডের দায়িত্ব ছিলেন শীতল কাজী নামের ১০ শ্রেনীর এক শিক্ষার্থী। চাকরিতে এসেই সোনিয়া সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে শিতল।

বৈশ্বিক মহামারী করোনা-ভাইরাসে পৃথিবী যখন তছনছ তখন সোনিয়া ও শীতলের মধ্যে গড়ে উঠে প্রেমের বন্ধন। করোনার কারনে ছাত্রবাসটি বন্ধ হয়ে গেলে শীতল-সোনিয়ার মধ্যে সম্পর্কে ভাটা পড়ে। ছাত্রবাসটি বন্ধ হয়ে গেলে সম্প্রতি শীতল জানতে পারে সোনিয়া আরও একটি ছেলের সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এই সন্দেহ থেকে কয়েকদিন পরপর দু’জনের মধ্যে মনোমালিন্য হতো। রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শীলত দি-আল ফালাহ্ মেডিক্যাল সেন্টারে থেকে সোনিয়াকে শহরের দাতিয়ারার ফারুকী পার্কে নিয়ে যান। এসময় সোনিয়াকে ওই ছেলের সাথে প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথা বলার পর শীতলের সাথে কথা-কাটাকাটি হয়। কথাকাটির এক পর্যায়ে সোনিয়া শীতলের সাথে অভিমান করে কেরি পোকা মারার ট্যাবলেট খেয়ে ফেলেন। শীতল সাথে সাথেই সোনিয়াকে পার্শ্ববর্তী জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আরিফুজ্জামান হিমেল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হাসপাতালে শীতল নামের এক প্রেমিকে সোনিয়া নামের এক প্রেমিককে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। শীলত জানায়, সোনিয়া তার সাথে রাগ করে কেরি পোকা মারার ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা চেষ্টা করেছে। সোনিয়কে স্টোমাক ওয়াশ দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করার কিছুক্ষণ পরে সোনিয়া মারা যায়।

এদিকে বেলা ১১ টার দিকে সোনিয়ার মামা মনির হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাগ্নির মৃত্যুর খবর পেয়েছি। এরআগে রাত ৯টার দিকে সে তার বোনের সাথে কথা বলেছে। আমার ভাগ্নি আত্মহত্যা করেছে নাকি শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেছে তা এখনো নিশ্চিত নয়। হাসপাতাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, অথচ হাসপাতালের কেউ আমাদের কিছু এখনো জানায়নি এবং মর্গেও তারা কেউ আসেনি। আমরা ভাগ্নির মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে চাই।

এব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ এমরানুল ইসলাম বলেন, আমরা ধারণা করছি সোনিয়া কেরি পোকার মারার ট্যাবলেট খেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত সঠিক কারণ বলা যাচ্ছে না। এই ঘটনায় এক তরুণকে আটক করা হয়েছে।

মোঃনিয়ামুল ইসলাম আকন্ঞ্জিঃ

digital

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *