সোমবার , ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর দফতরের নির্দেশের পরও সরাইলে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের গৃহে পৌঁছেনি বিদ্যুৎ

 প্রধানমন্ত্রীর দফতরের নির্দেশের পরও সরাইলে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের গৃহে পৌঁছেনি বিদ্যুৎ

ডিঃব্রাঃ ডেস্কঃ
“বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না” এই স্লোগানকে সামনে রেখেই সমগ্র বাংলাদেশে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে দেয়া হয়েছে জায়গাসহ ঘর। এরই অংশ হিসেবে সরাইলে দুই ধাপে ১৩৩টি পরিবার ঘর পেয়েছে। কিন’ ৫ মাস পেরিয়ে গেলে বিদ্যুৎ পৌঁছেনি অধিকাংশ ঘরে। বিদ্যুৎহীনতায় বড়ই কষ্টে আছেন অসহায় গরীব মানুষ গুলো। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ ও মিটার স্থাপন করে দেওয়ার লিখিত নির্দেশ আসার পরও ঘুমিয়ে আছেন সরাইল পিডিবি।

সরজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হচ্ছে ‘আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প।’ ২০২১ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ জানুয়ারি প্রথম ধাপে প্রধানমন্ত্রী সরাইলের ৫টি ইউনিয়নে মোট ১০২টি নির্মিত গৃহ উপকারভোগীদের নিকট হস্তান্তর করেন। এর মধ্যে চুন্টা ইউনিয়নে ৪৬টি, শাহজাদাপুরে ২২টি, কালিকচ্ছে ১৫টি, নোয়াগাঁও-এ ১২টি ও পানিশ্বরে ১২টি। হস্তান্তরের সময় ওই ঘর গুলিতে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল না। ছিল না সুপেয় পানির ব্যবস্থা। ফলে চাবি নিয়েও অনেকেই বিলম্বে ঘরে উঠেছেন।

দ্বিতীয় ধাপে গত ২০ জুন প্রধানমন্ত্রী সরাইলে আরো ৩১টি নির্মিত গৃহ উপকারভোগীর নিকট চাবি হস্তান্তর করেন। এরমধ্যে চুন্টা ইউনিয়নে ৫টি, শাহজাদাপুরে ৮টি, পানিশ্বরে ৭টি ও নোয়াগাঁও-এ ১১টি। প্রকল্পের নিয়মানুসারে অসহায় পরিবার গুলোর গৃহে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান ও মিটার স্থাপনের কথা রয়েছে। নিয়ম রয়েছে সুপেয় পানি পাওয়ার ব্যবস্থা করারও। দীর্ঘ ৫ মাসের অধিক সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। কোনটিই শকভাগ হচ্ছে না আদৌ। বিদ্যুৎ ছাড়াই চৈত্র বৈশাখের প্রচন্ড তাপদাহ পার করেছেন তারা।

আর এখন পার করছেন ঝড় বৃষ্টি। পিডিবি সংশ্লিষ্ট এলাকায় একটি ঘরও পায়নি বিদ্যুৎ সংযোগ। ফাঁকে পিডিবি অফিসের সাথে সংশ্লিষ্ট ২/১ জন ব্যাক্তি ২৩/২৪শত টাকায় সংযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও দিচ্ছেন। তবে পল্লী বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট এলাকায় কিছু পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগ পেলে অধিকাংশরাই বঞ্চিত এখনো। গত ২০ জুন প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩১টি ঘর প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্ভুধন করবেন।

এর আগে গত ২ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো: মাহবুব হোসেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সকল দফতর প্রধানকে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের গৃহে বিনামূল্যে বিদ্যুৎ সংযোগ ও মিটার স্থাপনের নির্দেশ দেয়া হয়। একই পত্র প্রকল্প সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলায় প্রেরণ করা হয়।

ওইদিনই প্রধানমন্ত্রীর দফতরের ওই পত্রটির রেফারেন্স দিয়ে (কপি সংযুক্ত করে) সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওইসব গৃহে জরূরী ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য সরাইল পিডিবি’র নির্বাহী প্রকৌশলীকে (বিক্রয় ও বিতরণ) লিখিত ভাবে অনুরোধ করেন। অনুরোধ করা হয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকেও। পত্র প্রেরণের ৩৮ দিন পরও ঘুম ভাঙ্গেনি সরাইল পিডিবি’র। এখনো অন্ধকারেই আছে সরাইলের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অসহায় বাসিন্ধারা। আর ৫ মাস ধরে বিদ্যুৎ বিহীন অবস্থায় আছেন প্রথম ধাপের অর্ধেকেরও বেশী পরিবার। ২/১ জন বাসিন্ধা জানিয়েছেন সরাইল পিডিবি’র ২/১ জন মাষ্টার রোল কর্মচারী বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য ২৩/২৪ শত টাকা চেয়েছেন।

পানিশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান মো. দ্বীন ইসলাম মিয়া বলেন, দুই ধাপে ১৪ পরিবারের কেউই এখনো পায়নি বিদ্যুৎ সংযোগ। তবে বেশ কয়েকটি ঘরে লাইন টেনে রেখেছেন। ভিটঘরে ৪৯ নম্বর ঘরের বাসিন্ধা নূরূদা বেগম (৪৩) বলেন, ঘরে উঠেছি ৫ মাস হয়েছে। বিদ্যুৎ সমস্যায় কষ্টে আছি। বাধ্য হয়ে পাশের বাড়ি থেকে লাইন এনেছি। মাসে ২শত টাকা দিতে হয়। ৫২ নম্বর ঘরের বাসিন্ধা জামাল মিয়া (৩৬) বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় পরিবারের ৬ সদস্য নিয়ে ৫ মাস ধরে কষ্ট করছি।

চুন্টার আজবপুরের ৩৭ নম্বর ঘরের বাসিন্ধা রোশেনা বেগম (৩৫) বলেন, কষ্টে আছি ৫ মাস। ৫৬৫ টাকা নিয়ে ২-৩ সপ্তাহ আগে বিদ্যুৎ দিছে। শাহজাদাপুর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, এখানে ২২ পরিবারের কাউকেই বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়নি পিডিবি। প্রচন্ড গরমে খুবই কষ্টে আছেন লোকজন। শাহজাদাপুরের ৪ নম্বর ঘরের বাসিন্ধা আ: খালেক (৬৫) ও ৭৬ নম্বর ঘরের বাসিন্ধা দুলাল মিয়া (৫০) বলেন, ৪ মাস ধরে বিদ্যুৎ সমস্যায় রোগী হয়ে যাচ্ছি। এত গরমে কি বিদ্যুৎ ছাড়া থাকা যায়?

এখানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে বসবাসকারী অনেক পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়া প্রসঙ্গে সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুল হক মৃদুল বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দফতরের লিখিত নির্দেশনা পাওয়ার পর আমরা সরাইল পিডিবি ও সুহিলপুরের পল্লী বিদ্যুৎ কর্র্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিত ভাবেই জানিয়েছি। মুঠোফোনে একাধিকবার নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলেছি। এখনো বলছি।

কিন্ত পল্লী বিদ্যুৎ কিছু জায়গায় কাজ করলেও সরাইল পিডিবি’র কাছ থেকে পজিটিভ কিছুই পাচ্ছি না। সরাইল পিডিবি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সামির আসাব গত ২ জুন প্রধানমন্ত্রীর দফতরের লিখিত পত্র প্রাপ্তির কথা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে চীফ স্যারের সাথে কথা বলেছি। নোট দিয়েছি। প্রসেসিং চলছে। অনুমোদন পেলেই সংযোগ দিয়ে দিব। ইউপি চেয়ারম্যানের সাথেও আমার কথা হচ্ছে।

মাহবুব খান বাবুলঃ

digital

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *