মঙ্গলবার , ১১ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,২৮শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজ বোনকে হত্যা


ডিঃব্রাঃ ডেস্কঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় দু’বছর আগে সংঘটিত একটি হত্যকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন হয়েছে।মামলার বাদী মুছা মিয়া প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে স্বামী পরিত্যক্তা বোন রফিজা খাতুনকে হত্যার পরিকল্পনা করে বলে জানিয়েছেন পিবিআইর ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনিটের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন।

মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টায় নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনিটের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ শাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের দরবেশ মিয়ার ছেলে মুছা মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের বাসিন্দা আবু কালামের নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। সর্বশেষ গ্রামের একটি খাস জমি দখল নিয়ে দু’জনের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। ওই জমি নিয়ে গত ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর উভয় পক্ষের লোকজনদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সেই সংঘর্ষে আবু কালামের একজন সমর্থক নিহত হন। এ খবর পাওয়ার মুছা মিয়া প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে তার বোনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পনায় আরও কয়েজন অংশ নেন।

এসপি শাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য মুছা মিয়া ও তার ভাই মোবারক, সোহাগ মিয়া, ভগ্নিপতি জয়নাল এবং চাচাতো ভাই আক্কাছসহ আরও কয়েকজন রফিজা খাতুনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। এর অংশ হিসেবে ঘটনার দিন রফিজাকে বাড়ির আঙিনায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পরিকল্পনাকারীরা। এরপর ২০১৯ সালের ৭ জানুয়ারি প্রতিপক্ষের ৫৭ জনের বিরুদ্ধে নাসিরনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন মুছা।

তিনি বলেন, পিবিআই মামলাটি তদন্তভার পাওয়ার পর বিজ্ঞানভিত্তিক তদন্তের মাধ্যমে হত্যকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আক্কাছকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হত্যকাণ্ডে অংশ নেয়া সোহাগ ও পরশকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। মূলত প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।

গ্রেফতারকৃতদের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া হত্যাকাণ্ডে মূল পরিকল্পনাকারী মুছা মিয়াসহ জড়িত সব আসামিদে গ্রেতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান এসপি শাখাওয়াত হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইর ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইউনিটের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) ও হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) গোলাম কিবরিয়া, পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মাসুদ পারভেজ ও উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

digital

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *