পুলিশের বিরুদ্ধে ভয় দেখিয়ে লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

0

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া থানা পুলিশের চার সদস্যের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তিকে ক্রসফায়ার ও মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েক দফায় ওই টাকা হাতিয়ে নেয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় গত ৩০ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপারের কাছে ওই চার পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. হারুন মিয়া।

অভিযুক্তরা হলেন- আখাউড়া থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মতিউর রহমান, হুমায়ুন কবির, সহকারী উপপরিদর্শক (এসএসআই) খোরশেদ ও সোহাগ।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আখাউড়া পৌর এলাকার মসজিদপাড়ার (উত্তর) বাসিন্দা মো. হারুন মিয়া দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। এখন আবারও প্রবাসে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। হারুনের প্রতিবেশী কালাম মিয়ার স্ত্রী চিকুনী বেগম তার মেয়েদের নিয়ে মাদক ব্যবসা করেন। মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ায় হারুন ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেন চিকুনী।

গত ২৫ মে দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এসআই মতিউর ও এসআই হুমায়ুন এবং সাদা পোশাকে আরেক পুলিশ সদস্য সোহাগ আরও দুইজন পুলিশ সদস্যকে নিয়ে নাটকীয়ভাবে চিকুনীকে আটক করেন। পরবর্তীতে চিকুনী ও তার মেয়েদের কথায় পুলিশ সদস্যরা হারুনের বাড়িতে তল্লাশি চালান।
অভিযোগে বলা হয়, তল্লাশির নামে হারুনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হয়রানি করেন পুলিশ সদস্যরা। এছাড়াও ঘরের সমস্ত আসবাবপত্র উলট-পালট করেন। এ সময় হারুন তার প্রতিবেশীদের ডেকে আনেন। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা হারুনের ঘরে মাদক না পেয়ে ঘরে থাকা তার মা আয়েশা বেগমের পেনশনের আট হাজার এবং ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে আনা ৩০ হাজার টাকা নিয়ে নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এরপর হারুনকে মারধর করে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ঘটনার দিন ভোর ৪টার দিকে আবারও অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হারুনের বাড়িতে এসে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে এক লাখ টাকা দাবি করেন। এ সময় ঘটনাটি ৫০ হাজার টাকায় দফারফা হয় এবং ওইদিন বেলা ১১টার মধ্যে টাকা পরিশোধ করার শর্ত দিয়ে ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানালে ক্রসফায়ারের হুমকি দিয়ে পুলিশ সদস্যরা হারুনের বাড়ি ত্যাগ করেন। এরপর কথামতো এসআই হুমায়ুনের কাছে টাকা নিয়ে যান হারুন। এ সময় হারুন তার বৃদ্ধ মায়ের পেনশনের আট হাজার টাকা ফেরত চাইলে এসআই মতিউর ওই আট হাজার টাকা ফেরত দেন।

অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা হারুনের কাছ থেকে দফায় দফায় ৯০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

ভুক্তভোগী মো. হারুন মিয়া বলেন, আমার সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে আমি এর বিচার চাই। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে করও সঙ্গে না ঘটে সেজন্য আমি পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দিয়েছি।

অভিযোগের ব্যাপারে বক্তব্য জানতে আখাউড়া থানা পুলিশের এসআই মতিউর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে অভিযুক্ত আরেক এসআই হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সব অভিযোগ মিথ্যা। আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) মুহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে