পাঁচশত টাকার জন্য মহিলাকে মেরে হাত ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ

0

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাঁচশত টাকার জন্য ইউপি সদস্যের ছেলের বিরুদ্ধে এক মহিলাকে মারধোর করে হাত ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়  এক ইউপি সদস্যের ছেলের বিরুদ্ধে কল্পনা রানী দাস ওরফে আল্পনা-(৪৮) নামে এক মহিলাকে ৫শত টাকা না দেয়ায় পিটিয়ে তার হাত ভেঙ্গে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আহত আল্পনা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগে সদর উপজেলার মজলিশপুর ইউনিয়নের চার নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা বিমল চন্দ্র দাসের স্ত্রী কল্পনা রানী দাস ওরফে আল্পনা অভিযোগ করে বলেন, তিনি মজলিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আমিরপড়ার গ্রামের দক্ষিণপাড়ার বাসিন্দা। তিনি সেখানকার একটি শশ্মানের ভেতরে একটি কক্ষে স্বামী ও চার সন্তান নিয়ে বসবাস করেন।
গত কয়েকদিন আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নগদ সহায়তা পাওয়ার আশায় তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্তির জন্য ইউপি সদস্য আওয়াল মিয়ার কাছে যান। কিন্তু ইউপি সদস্য আওয়াল মিয়া তালিকায় তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করেননি। হতাশায় ফিরে গেলে অন্য ওয়ার্ডের আরেক ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম প্রধানমন্ত্রীর নগদ সহায়তার আড়াই হাজার টাকা প্রদানের কার্ড করে দিবে বলে তাঁকে আশ্বাস দেন। বিনিময়ে সেখান থেকে ৫০০টাকা ইউপি সদস্য খোরশেদ আলমকে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। আল্পনা এই প্রস্তাবে রাজি হন।
কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নগদ সহায়তা দেওয়া দুই হাজার ৫০০টাকা আল্পনার মোবাইল ফোনে আসেনি। গত ১০ জুন রাত নয়টার দিকে আল্পনাকে মজলিশপুর নৌকাঘাটে ডেকে নিয়ে যান ইউপি সদস্য খোরশেদের ছেলে খায়েশ মিয়া। সেখানে যাওয়ার পর খায়েশ মিয়া আল্পনার কাছে ৫০০টাকা দাবি করেন। এ সময় আল্পনা এখনো তার মোবাইল ফোনে টাকা আসেনি বলেন ও আসলে টাকা দিয়ে দিবে বলে জানান। কিন্তু খায়েশ মিয়া এই কথা শুনতে রাজি হয়নি।
পরে খায়েশ মিয়া আল্পনার ছেলের সামনেই আল্পনাকে লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করে। পরে তার ১০ বছরের শিশু এগিয়ে গিয়ে মাকে উদ্ধার করে। মারধরে আল্পনার ডান হাত ভেঙ্গে যায়। আর বাম হাতের কনুইয়ের উপর থেকে নিচ পর্যন্ত রক্তজমাট বেঁধে যায়।
এ ব্যাপারে মারধোরের শিকার আল্পনা জানান, মেম্বারের দাবিমতো ৫শত টাকা না দেয়ায় মেম্বারের ছেলে মারধর করে তার হাত ভেঙ্গে দিয়েছে। বাম হাতেও ব্যাথা আছে। হাতের যে অবস্থা এতে আগামী তিন-চার মাস কাজ করতে পারব না। তিনি বলেন, তিন বেলা খাবার না যোগাড় করতে পারলে সন্তানরা না খেয়ে মারা যাবে।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নগদ সহায়তা দেওয়ার তালিকার বিষয়ে ওই মহিলার সাথে আমার কোনো কথা হয়নি। আমি এমন কোনো তালিকা দেইনি। এই অভিযোগ সত্য না। তিনি আরো বলেন, ওইদিন রাতে ঢাকা যেতে নদী পাড় হওয়ার সময় ধাক্কাধাক্কিতে হয়তো পড়ে যাওয়ায় ওই মহিলার হাত ভেঙ্গে গেছে। ঢাকা থেকে ফিরে তাঁর বাসায় গিয়েছি। তাকে চিকিৎসার জন্য টাকাও দিয়েছি। বিষয়টি সমাধানের জন্য ডাকা হলেও ওই মহিলা আসেননি।
এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য মজলিশপুর ইউপি চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, মারধরের অভিযোগটি পেয়েছি। অবশ্যই এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে