বৃহস্পতিবার , ২৮শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,১২ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

নদীর বেঁচে থাকার কি অধিকার আছে!

 নদীর বেঁচে থাকার কি অধিকার আছে!

আবদুল মতিন শিপনঃ
বাংলাদেশকে নদীমাতৃক দেশ বলা হয় কারন অসংখ্য নদ-নদীর শাখা প্রশাখা এই দেশের বুক চিরে যেমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে পাশাপাশি আমাদের কৃষি,অর্থনীতি করেছে সমৃদ্ধ।ইউকিপিডিয়ার ভাষ্যমতে শাখা প্রশাখা মিলিয়ে প্রায় ৩১০টি নদ-নদী বিপুল জলরাশি নিয়ে ২৪,১৪০ কিলোমিটার জায়গা দখল করে দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।যদিও নদীর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে মতবিরোধ আছে যা স্বাধীনতার এত বছর পর ও আমাদের জন্য লজ্জার বিষয় আমরা প্রকৃত সংখ্যা এখনও বের করতে পারিনি। আমাদের এই ব্যর্থতার নেপথ্যে নদীর প্রতি আমাদের উদাসীনতার চিত্রটি ফুটে উঠে। নদী দখল নিত্যদিনের ঘটনা,নদীর দুইপাশ দখল করে গড়ে উঠেছে বাড়ী ঘর,পয়নিস্কাশন হচ্ছে নদীর পানিতে।নদী ভরাট করে দখল করছে প্রভাশালীরা। নদীর পারে গড়ে উঠা মিল ফ্যাক্টরী, কলকারখানার বর্জ্য পর্দাথ,কেমিক্যাল দ্বারা দূষিত হচ্ছে নদী। এতে করে নদী নির্ভর প্রাণীবৈচিত্র্যও নষ্ট হচ্ছে। নদীর সংখ্যা কমছে,বাড়ছে বিলুপ্তপ্রায় নদীর সংখ্যা।কিন্তু কেউ কোন প্রতিবাদ করি না।যে যেই ভাবে পারছে নদীকে তারা সেইভাবে ব্যবহার করছে।

সাম্প্রতিক একটা খবর আমাকে খুব ব্যতিত করেছে,তিতাস নদীর পার দখল করে বেশ কিছু ইমারত নির্মান হয়েছে। এ নিয়ে অবশ্য নদী ভিত্তিক সংগঠন নোঙর প্রতিবাদ ও করেছে,যথাযথ কৃর্তপক্ষের বরাবর লিখিত অভিযোগ ও দায়ের করেছে। জানি না শেষ পর্যন্ত কি হয়। নোঙর এর দীর্ঘদিনের দাবী ছিল তিতাস নদীর সীমানা নির্ধারণ, সীমানা পিলার স্থাপন,দখল উচ্ছেদ। দুঃখজনক হলেও সত্য এই ধরনের কার্যক্রম তিতাস নদীতে পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তিতাস নদীকে কেন্দ্র করে মানুষের জীবন জীবিকার উন্নতি ঘটলেও তিতাস রয়ে গেছে অযত্নে অবহেলায়।

মানুষের যেমন বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে ঠিক তেমনি নদীরও বেঁচে থাকার কিছু অধিকার রয়েছে,হয়ত এগুলো আইনে সীমাবদ্ধ বা আমরা নদীকে মানুষের সাথে তুলনা করতে শিখিনি। নদ-নদীর মালিকানা ও স্বত্ব জনগণের, এমনকি রাষ্ট্রেরও নয়। এই মালিকানা ও স্বত্ব রক্ষা করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের এবং রাষ্ট্রের অধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তাদের আইনের প্রয়োগ করে যেতে হবে সাহসের সাথে। যদিও ২০২০ জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন সংশোধিত আইনে বলা হয়েছে,নদীর দখল,দূষন,অবকাঠামো নির্মাণ, মৎস্য চাষ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করে এমন কর্মকাণ্ড ফৌজদারি অপরাধ বলে গণ্য হবে।আইন আছে আইনের প্রয়োগ বাড়াতে হবে সাথে সাথে জনমনে সচেতনতার সৃষ্টি করতে হবে।

বাংলাদেশের সকল প্রকার নদ-নদী, জলাধার, পানির উৎস রক্ষা করা, অবৈধ দখল মুক্তকরণ, নদীর তীরে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ, বিলুপ্ত বা মৃতপ্রায় নদী খননের বিষয়ে পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।
সরকারকে নদ-নদী বাঁচাতে খুব দ্রুত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। সরকারি-বেসরকারি প্রকল্পগুলোর কাজের গতি যেমন ত্বরান্বিত করতে হবে, তেমনি এসব কাজের জবাবদিহি বাড়াতে হবে। নদী দখল-দূষণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।এইভাবে নদী ফিরে পাবে প্রান,আর আমরা নদীপ্রেমীরা ফিরে পাবো স্বস্তি।

digital

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *