নতুন যারা চিকিৎসক হলেন, রোগীর ‌চি‌কিৎসার বিষয়‌টি‌তে করনীয়গু‌লো ম‌নে রাখুন।

0

নতুন যারা চিকিৎসক হলেন,
রোগীর ‌চি‌কিৎসার বিষয়‌টি‌তে করনীয়গু‌লো ম‌নে রাখুন।

১) সবসময় ফ‌লোআপ ও প্র‌তি‌টি ঘটনার নোট রাখ‌বেন। ডেট, ও টাইম ছাড়া কিন্তু স্বাক্ষর মূল্যহীন।

২) সিস্টার‌দের কাজ ম‌নিটর কর‌বেন। যেসব কাজ ডাক্তা‌রের না‌মে চ‌লে, সেসব কাজে ন‌ি‌জে দা‌য়িত্ব ‌নি‌য়ে খোজ নে‌বেন।

৩)সহকর্মীর প্রদত্ত চি‌কিৎসা‌কে আগ বা‌ড়ি‌য়ে ভুল ‌চি‌কিৎসা বল‌তে যা‌বেননা। প্র‌য়োজ‌নে তা‌কেই জিজ্ঞাসা করুন বা শি‌খি‌য়ে দিন।

৪) কন‌ভিন্স না হ‌লে, না বু‌ঝে কোথাও, জীব‌নে কোন‌দিনও স্বাক্ষর কর‌তে যা‌বেন না।

৫) ‌রোগী আপনার আপন মানুষ, সমস্যা ক‌রে সাথে থাকা স্বজন। সুতরাং ইমা‌র্জে‌ন্সি কেসে স‌র্বোচ্চ প্রা‌য়ো‌রি‌টি দিন, পে‌শেন্ট পা‌র্টির সা‌থে রেপর্টিয়ার তৈ‌রি করুন, ‌নে‌গে‌টিভ বা প‌জি‌টিভ কাউ‌ন্সিলিং করুন। কাউন্সেলিং করার পরে ব্যক্তির নাম এবং ব্রাকেটে তার সাথে রোগীর সম্পর্ক লিখুন। ( eg Patient’s attendant (Mr/Mrs X, Patient’s Son/Daughter/sister/Husband/Wife) was counselled/informed about patient’s condition)

৬) ক্লি‌নিক্যাল ন‌লেজ বাড়ান। ইন্টার্নীর সম‌য়ে ও এর প‌রের ট্রে‌নিংগু‌লো স‌র্বোচ্চ মন দি‌য়ে করুন। যে বিষয়েই ক্যারিয়ার করার পরিকল্পনা করেন না কেন, সি‌পিআর, সার্জ‌ারী,‌মে‌ডি‌সিন ও গাইনীর ইমার্জে‌ন্সি ম্যা‌নেজ‌মেন্টগু‌লো আয়‌ত্ত্বে রাখুন।

৭) রোগীর জীবন ঝু‌কিপূর্ণ, এমন বিষয়গু‌লো সতর্ক থাকুন। পে‌শেন্ট পা‌র্টির এ‌টিচ্যুড বু‌ঝে চি‌কিৎসা ‌দিন বা রেফার করুন। রোগীর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে উনাকে ব্যাপারটা বুঝিয়ে বলুন। উনি অজ্ঞ হলে আরো দুয়েকজনকে একসাথে নিয়ে বলুন।

৮) অনু‌মো‌দনহীন হাসপাতাল ক্লি‌নিকগু‌লোতে কাজ করা প‌রিহার করুন। কারণ সব‌শে‌ষে চি‌কিৎস‌কের উপরই দায় বর্তা‌বে। প্রয়োজনে নিজ এলাকায় চেম্বার করুন। এতে আত্মতৃপ্তি ও দায়িত্ববোধ দুইটাই থাকবে। অর্থের অভাব হবেনা আশা করি।

৯) ক্লি‌নি‌কে ব্যবসায়ীর ইন‌ভেস্ট তোলার দা‌য়িত্ব চি‌কিৎস‌কের নয়। তার দা‌য়িত্ব ভ‌র্তি রোগীর স‌ঠিক চি‌কিৎসা নি‌শ্চিত করা। নিজেকে বিবেকের কাছে শুদ্ধ থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ইনভেস্টিগেশন করুন।নিজের বিবেকের কাছে পরাজিত হলে পৃথিবীর আর কোথাও জিততে পারবেন না।

১০)পৃ‌থিবীর সব রোগ কোন একক ব্য‌ক্তি সারা‌তে জা‌নেননা। প্র‌য়োজ‌নে বি‌শেষজ্ঞ বা বি‌শেষা‌য়িত হাসপাতা‌লে রেফার করুন, এটাও চি‌কিৎসারই অংশ। রেফারা‌লে কোন ‌ডিস‌ক্রে‌ডিট নেই, বরং লাভ আ‌ছে।

১১) আল্ট্রাস‌নো‌তে কন‌ফিউশন হ‌লে, প্রয়োজ‌নে রেফার করুন। ম‌নে রাখ‌বেন এটা এক‌টি স্বাক্ষ‌রিত শক্ত ডকু‌মেন্ট। না বুঝে কোন ডায়াগনোসিস লেখা চিকিৎসকের মর্যাদার চরম পরিপন্থী।

১৩) দয়া করে কখনোই অধৈর্য হবেন না। কর্মক্ষেত্রের প্র‌তি‌টি সময় স্মুথ যা‌বে, এটা কখনও কল্পনা কর‌বেন না। #ক্রি‌টিক্যাল সময় ক‌ন্ট্রোল কর‌তে পারাটাই চি‌কিৎসক জীব‌নের সব‌চে‌য়ে বড় শিক্ষা।

১৪) আমরা যে‌কেউ বিপ‌দে পড়‌তে পা‌রি। আত‌ঙ্কিত হওয়া নয়, পরস্পর ভুল বোঝাবু‌ঝি নয়। স‌চেতন থাকুন, মান‌বিক থাকুন, ন্যা‌য়ের প্র‌শ্নে দৃঢ় থাকুন।
ব্যাস, এতটুকুই য‌থেষ্ট।
আল্লাহ আপনা‌দের ‌নিরাপ‌দে রাখুন।

ডা: মুহিব্বুর রহমান রাফে
এমবিবিএস, এমডি
কনসালটেন্ট
ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন
সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, ঢাকা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে