সোমবার , ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

দেওয়ান মাহবুব আলী’র শোকসভায় বক্তারা-‘ম্যুরাল,স্মৃতিফলক বা সড়কে নামকরণের দাবী’

 দেওয়ান মাহবুব আলী’র শোকসভায় বক্তারা-‘ম্যুরাল,স্মৃতিফলক বা সড়কে নামকরণের দাবী’

ডিঃব্রাঃ
দেওয়ান মাহবুব আলী। ডাক নাম কুতুব মিয়া। শুধু একটি নাম নয়। একটি ইতিহাস। একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক নেতার ইতিহাস। আর এই ইতিহাস সাড়া জাগিয়েছিল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের দেওয়ান পরিবারে জন্ম নেয়া এ বীর পুরূষ ছিলেন জনতার নেতা। তিনি ছিলেন ৫৪ সালের নির্বাচিত প্রাদেশিক সদস্য।

৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বজনমতকে পক্ষে আনার জন্য হাঙ্গেরীর আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মেলনে বক্তব্য দিয়ে সারা বিশ্বকে অবাক করেছিলেন। ন্যাপের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহসভাপতি আদমজী জুটমিলের শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর সাহচার্যে থেকে রাজনীতি করেছেন। লড়াই করেছেন গণতন্ত্রের জন্য। সফলও হয়েছেন। কারণ তিনি সকল শ্রেণি পেশার মানুষের আপনজন। নি:স্বার্থ এ রাজনৈতিক নেতাকে মানুষ ভালবাসতেন মনে প্রাণে। ৭১’র ৪ জুন শান্তি সম্মেলন থেকে ফেরার পথে দিল্লী বিমানবন্দরে উনার আকস্মিক মৃত্যু কাঁদিয়েছে জাতিকে।

কাঁদিয়েছে সরাইল বাসীকে। মৃত্যুর ৫০ বছর পরও এমন দেশ প্রেমিক নেতার স্মৃতিযুক্ত উল্লেযোগ্য কিছু সরাইলে গড়ে ওঠেনি। এটা অত্যন্ত দু:খজনক। স্বাধীনতার বীর সেনানী মাহবুব আলীর নাম মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নেই। তার পরিবারের কোন সদস্য আজ পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধার কোন সুবিধাও পাননি। কীর্তিমান এ পুরূষকে বর্তমান ও পরবর্তী প্রজন্মের কাছে বাঁচিয়ে রাখতে সরাইলের গুরূত্বপূর্ণ স্থানে একটি ম্যুরাল ও একটি স্মৃতিফলক নির্মাণের প্রস্তাব করেন বক্তারা। সেই সাথে যেকোন একটি গুরূত্বপূর্ণ সড়ক দেওয়ান মাহবুব আলীর নামকরণের দাবী ওঠে সভায়।

উপজেলা প্রত্যেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে মাহবুব আলীর জীবনি আলোচনা করার প্রস্তাবও এসেছে। গতকাল শুক্রবার মাহবুব আলী স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে তাঁর ৫০তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন উপলক্ষে স্থানীয় সিরাজুল ইসলাম অডিটরিয়ামে আয়োজিত নাগরিক শোকসভায় উপরোল্লেখিত কথা গুলো বলেছেন বক্তারা। উপলদ্ধির সভাপতি মো. শরীফ উদ্দিনের সঞ্চালনায় ও স্মৃতি পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট আব্দুর রাশেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই শোকসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর।

স্বাগত বক্তা ছিলেন দেওয়ান পরিবারের সন্তান দেওয়ান রওশন আরা লাকী। এছাড়া বক্তব্য রাখেন-সরাইল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মৃধা আহমাদুল কামাল, সরাইল মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মাহবুব খান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. আরজু, সরাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আইয়ুব খান, ত্রিতাল সঙ্গীত নিকেতনের অধ্যক্ষ সঞ্জীব কুমার দেবনাথ, উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি ও সাংবাদিক শফিকুর রহমান,

কৃষকলীগের সম্পাদক আবু আহমদ মৃধা, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হোসাইন আহমেদ তফছির, কমিউনিষ্ট পার্টি সরাইল শাখার সভাপতি দেবদাস সিংহ রায়, আ’লীগ নেতা মো. মোস্তাফিজুর রহমান, হাজী মাহফুজ আলী, শাহ রহমাত আলী, হাজী ইকবাল হোসেন, স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মো. বাবুল হোসেন, ন্যাপ নেতা আব্দুল জব্বার, শিক্ষক নেতা মো. শামছুল আলম, সমাজ কর্মী মো.সুমন পারভেজ, কবি তালুকদার আবুল কাশেম, আব্দুস সুবহান মাখন ও খোকন সেন প্রমূখ। সবশেষে দেওয়ান মাহবুব আলীসহ দেশের সকল বীর শহীদ ও প্রয়াতদের জন্য দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা মশিউর রহমান।

মাহবুব খান বাবুল: 

digital

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *