#দীর্ঘ_সময়_বসে_থাকা আর #কোমর_ব্যথা:

0

একাডেমিক সেশন 

মাংসপেশির জন্মের সার্থকতা যখন সে কাজে থাকে। ইলাস্টিকের মতো সংকোচন-প্রসারণ হয়। আর জয়েন্ট এর সার্থকতা নাড়াচাড়ায়। ঠিক উল্টোটা ঘটবে যখন আবার এদের উপর বাড়তি চাপের বোঝা চাপানো হয়। মাংসপেশিগুলো তখন বিদ্রোহ ঘোষণা করে ওঠে, জয়েন্টগুলো আত্মচিৎকারে আপনার কাজ আর ঘুম হারাম করে দেয়।

ছবি-লাল গুলোতে ট্রিগার পয়েন্ট থাকতে পারে তবে নিচের হলুদ চিহ্নিত গুলোতে ব্যথা দীর্ঘ সময় বসে থাকা মানুষের বেশি পাওয়া যেতে পারে

মাংসপেশীগুলো আপনাকে হাঁটতে সাহায্য করে, কেউ কেউ সিঁড়ি ভাঙতে সাহায্য করে, কেউ আবার সিঁড়ি থেকে নামতে সাহায্য করে। কিছু মাংসপেশি বসা থেকে উঠায় কিছু মাংসপেশি দাঁড়ানো থেকে আপনাকে বসিয়ে দেয়। ঠিক তেমনি কিছু মাংসপেশি আপনাকে চেয়ারে বসে থাকতে সাহায্য করে জয়েন্ট গুলোর সাহায্য নিয়ে।

ছবি-ইরেক্টর স্পাইন যার কাজ হলো বসতে সাহায্য করা ও কোমর সোজা রাখা। আর দ্বিতীয়টি মাল্টিফিডাস

এ রকমই দুটো মাসল হল ইরেক্টর স্পাইন যার কাজ হলো বসতে সাহায্য করা ও কোমর সোজা রাখা। আর দ্বিতীয়টি মাল্টিফিডাস যার মূল কাজ কোমর সোজা রাখা। দুটোই আবার ডানে বামে কাত হতে সাহায্য করে।

সাহায্য করবে বলেই তাকে যাচ্ছেতাই সমাদর করবেন তা হবে না। কখনো কখনো এরা যেই পয়েন্টে গিয়ে লেগেছে সেখানে দাঁত কামড়ে আপনাকে বোঝাতে চায় আপনার কোমর ব্যথা আছে। কখনো পিঠে বোঝা নিতে গিয়ে কিংবা মোটরবাইক চালাতে গিয়ে কিংবা আচমকা কোন বেকায়দা পজিশনে পড়ে এইসব পয়েন্টগুলোতে ব্যথা হতে পারে।

ছবি-ইরেক্টর স্পাইন আর মাল্টিফিডাস যার কাজ হলো বসতে সাহায্য করা ও কোমর সোজা রাখা।

সারাদিন আমরা যখন ওদের উপর সিন্দাবাদের দৈত্যের মত চেপে বসে থেকে নিজের স্বার্থ সিদ্ধি করতে থাকি তখনই তারা কখনও কখনও চরম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। কখনো কখনো “টান ধরে” যাকে “স্পাজম” বলি। কিন্তু স্পাজম নেই অথচ প্রতিক্রিয়াটা যখন মাংসপেশি সংশ্লিষ্ট হয়, তখনই তাকে আমরা মায়োফিসিয়াল পেইন সিনড্রোম বলতে চাই।

🔶কিভাবে বুঝবেন চিকিৎসক:
এটি পুরোপুরি ক্লিনিক্যাল। এক্স-রে ও এম আর আই তে কিছুই পাওয়া যাবে না। বরং কখনো কখনো এটি চিকিৎসককে কনফিউশনে ফেলে দিতে পারে। রুটিন ও সন্দেহজনক মনে হলে নির্দিষ্ট ইনভেস্টিগেশন করা যেতে পারে ফর এক্সক্লুশন। নির্দিষ্ট ব্যথার স্থান টিপে টিপে টেন্ডার পয়েন্ট গুলো খুঁজে বের করতে হবে। মাঝেমাঝে রোগী নিজেই হাত দিয়ে জায়গা চিনিয়ে দেন। স্লিপ স্টাডি করেও এটি ডায়াগনোসিস করা যেতে পারে।

🔶ভালো কি হয়?
শতভাগ ভালো হওয়া সম্ভব। যদি মায়োফেসিয়াল হয়ে থাকে। মজার বিষয় হচ্ছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শুধু ব্যথার ওষুধ বা মাসল রিলাক্সেন্ট খেয়ে এটির কোন সমাধান হবে না। সর্বপ্রথম প্রয়োজন উৎস খুঁজে বের করা। এখনকার আধুনিক চিকিৎসায় মায়োফেসিয়াল রিলিজ অথবা ডিপ ট্রান্সভার্স ফ্রিকশন মেসেজ, সফট টিস্যু মানিপুলেশন ও মোবিলাইজেশন মুহূর্তেই ব্যথা কমিয়ে দিতে পারে। আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি যথেষ্ট সহায়ক। ড্রাই নিডেলিং করে ব্যথার মৌচাক ভেঙে দেয়া হয়।

বেঁচে থাকতে চাইলে এক্টিভ থাকুন। নিয়মিত এক্সারসাইজ করুন।প্রতি ঘন্টা বসে থাকার ফাঁকে ৫-১০ মিনিট একটু হাঁটাহাঁটি করে নিন।

পরবর্তী পর্বে এক চাচার গল্প আপনাদের শোনাবো। (অবশ্যই ভিডিওসহ)

ডা. মুহিব্বুর রহমান রাফে (এমডি)
কনসালটেন্ট ও রিজেনারেটিভ মেডিসিন স্পেশালিস্ট
ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন।
সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, ঢাকা।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে