ডা: মুহিব্বুর রহমান রাফে

1

-ডাক্তার সাহেব! রিসিট কাটা হয়নি, ভিজিটটা রাখেন।
-বাবাজি! আমিতো রিপোর্টের জন্য আলাদা কোন টাকা নেই না। এটা প্রয়োজন নেই।
-আরে কি বলেন!!! না না, এটা হতে পারেনা।
অবাক হয়ে মানুষটার দিকে তাকিয়ে বললাম; 
-হ্যাঁ! এটাই তো সত্য। 
সত্যি কি, বর্ষিয়ান রিটায়ার্ড এই কাপলের কাছে প্রথমবারই ভিজিট নেবার সময়েই কেন যেন সংকোচ হচ্ছিল। কিন্তু সেটাও ছিল মায়াভরা।
-আচ্ছা! দোয়া করে পুষিয়ে দিয়েন। কিন্তু আমি তো রিপোর্টের জন্য ফিস নেইনা। কেন দিবেন?
-কিছু টাকা অন্তত রাখেন? 
অদ্ভুত রোগী!! পাশে থেকে ওনার স্ত্রীও সুপারিশ করছিলেন। এ যুগে জোর করে সেধে টাকা দেওয়া রোগী বিরল। একটা বয়স্ক কাপল এত হাস্যোজ্জ্বল, কিউট হতে পারে, সামনাসামনি আলাপ না করলে, এটা ফিল করা যাবেনা। দ্বিতীয় দিন রিপোর্ট নিয়ে যখন আমার কাছে আসলেন, আমি চমৎকার সঙ্গ উপভোগ করছিলাম। দুজন দুজনের প্রতি এতটা কেয়ারিং, সত্যি শেখার মত। তিনি ভুল বললে, স্ত্রী এপলজি করে, হাসিমুখে ধরিয়ে দিচ্ছিলেন। 
-কেন? রাখলে আপনি কি খুশি হবেন?
-হ্যাঁ হই। আমি খুশি হয়েই আপনাকে দিতে চাই।
চলে গেলেন, তবু রেশ থেকে গেল।
ছবিটা শ্রদ্ধা নিয়ে পোস্ট করেছি।
*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-*-
শুধু আমি নই, কমবেশি সব চিকিৎসকেরই এধরনের অভিজ্ঞতা আছে। 
যে বিপুলসংখ্যক রোগীকে আমরা মানবিকতা ও ভালোবাসা দিয়ে সেবা দেই,
কখনো ভিজিট না নিয়ে কখনো বা উল্টো নিজের পকেটের পয়সা দিয়ে, পুওর ফান্ড গঠন করে, 
ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে চেয়ে-চিন্তে, 
নিরবে পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করি, 
তাদের একটি বিরাট অংশ 
#এন্ড্রয়েড_মোবাইল ব্যবহার করেনা, 
#ফেসবুক, অনলাইন কি জিনিস, তারা জানেন না।
নিরব দোয়া ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ কখনো বকসিশ, বাড়ির খাবার কখনো কলাটা- মূলাটা, কখনো মাছ/সবজি কিংবা ক্ষুদ্র উপহার হয়ে চিকিৎসকের কাছে ফেরত আসে।

গুটিকয়েক মানুষের অপপ্রচার, চিকিৎসক বিরোধী এটিচ্যুড আর কিছু বেকার মানুষের ফেসবুক এ ফ্রি এমবি খরচ করা পোস্ট কমেন্টের কারণে বীতশ্রদ্ধ হয়ে নিজের মানবিকতাপূর্ণ মনটি যেন নষ্ট করে না ফেলি। এতে দিনশেষে আমরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবো আর ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিরবে ভালোবেসে যাওয়া, কৃতজ্ঞতা পূর্ণ কোটি কোটি সরল প্রাণ মানুষ। 
#লাখো মানুষ ভুল বুঝে কটু কথা বলতে পারে কিন্তু #কোটি #কোটি মানুষের দোয়া ও ভালোবাসায় সিক্ত আমাদের এই পেশা। 
যে যাই বলুক, যে যাই করুক, যেন বদলে না যাই।
হতাশার অন্ধকারে এই রোগীরাই তো আমাদের 
#আশার_বাতিঘর
দিন শেষে অন্তত এ মানুষগুলোর জন্য হলেও এই “আমিটাকেই” যেন লালন করতে পারি।
ডা: মুহিব্বুর রহমান রাফে
এমবিবিএস, এমডি
কনসালটেন্ট
ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন
সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, ঢাকা।

1 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে