বৃহস্পতিবার , ২৮শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,১২ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

টাকা দিলেই মেলে করোনার টিকা ফখরুলের স্বেচ্ছাচারিতায় বিক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ

 টাকা দিলেই মেলে করোনার টিকা ফখরুলের স্বেচ্ছাচারিতায় বিক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ

সেবাগ্রহীতাদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ

ডিঃব্রাঃ ডেস্কঃ
কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) ফখরুল ইসলাম। প্রবাসীদের কাছে যেন তিনি এখন ত্রাতা। অভিযোগ উঠেছে- তাকে টাকা দিলেই মিলছে করোনাভাইরাসের টিকা। তার এসব স্বেচ্ছাচারিতমূলক কর্মকান্ডের খবর এখন শহরবাসীর মুখে মুখে। তার স্বেচ্ছাচারিতার শিকার হয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। অতিমহামারিতে করোনাসেবায় অন্যান্য সিএইচসিপিদের মতো ফখরুলকেও আনা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে। এখানে আসার পর থেকে প্রতিদিনই তার বিরুদ্ধে অমানবিক আচরণের অভিযোগ মিলতে থাকে। বাদ যায়নি সরকারি কর্মকর্তা থেকে সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ থেকে সামাজিক নেতৃবৃন্দ- ফখরুলের অহংকার দম্ভে অপমানিত হয়ে আসতে হয়েছে ওই কক্ষ থেকে। শুধু টাকার গন্ধ পেলেই তিনি নিজেকে সামলে রেখে নির্দিষ্ট লোকের কাজটি হাসিমুখে করে দিচ্ছেন। এই অর্থ নেওয়ার পাশাপাশি কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) ফখরুল ইসলাম কাউকে বিষয়টি না জানানোর প্রতিশ্রুতিও রাখেন প্রবাসীদের কাছ থেকে।

সম্প্রতি শহরের কয়েকজনের সাংবাদিকদের সাথে যোগাযোগ করে ভুক্তভোগী কয়েকজন প্রবাসী ফখরুলের বিষয়ে অবগত করে কিছু তথ্যপ্রমাণ হস্তান্তর করে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীকে জামাত-বিএনপি’র কট্টর অনুসারী ফখরুলের কালো হাত থেকে রক্ষায় প্রশাসনের নিকট সবকিছু তুলে ধরতে মানবিক আবেদন জানান। ফখরুলের স্বেচ্ছাচারিতায় অপমানিত হয়েছেন- এমন বেশ কয়েকজন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের সচেতন নাগরিকের সাথে কথা হয়েছে প্রতিবেদকের। তারাও ফখরুলের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন। তারা বলছেন- ফখরুল ওখানে বসে সরকারের স্বাস্থ্য সেবার সুনামকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। সেখানে সেবা নিতে আসাদেরকে ফখরুল ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করে থাকে। ফখরুল কেন সেবাগ্রহীতাদের সাথে এমন আচরণ করেন, তা বোধগম্য নয় বলে তারা উল্লেখ করেন।

বিরাসার গ্রামের প্রবাসীর স্বজন মো. হাবিবুল্লাহ জানান, ‘প্রবাসে যেতে হলে টিকা দেওয়া বাধ্যতামূলক। বর্তমান সময়ে প্রবাসীদের টিকা পাওয়া অনেকটা কঠিন। তাই ফখরুলের কাছে গিয়ে টিকাদানের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি টাকার বিনিময়ে টিকা এবং এসএমএস পাওয়ার প্রস্তাব করেন। পরে ২ হাজার টাকার বিনিময়ে কাজটি করে দেন’।

নাম প্রাকাশ্যে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যক্তি জানান, কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) ফখরুল ইসলাম টিকা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সাথে খারাপ আচরণ করেন। আর তার কাছে টাকা দিলেই কোন প্রকার নিয়ম কারনের তোয়াক্কা না করেই দিয়ে দিচ্ছেন টিকা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগ নেতা মোমিন হোসাইন জানান, করোনার টিকা সরকার জনগনকে বিনামূল্যে সরবরাহ করছে। কিছু অসাধু কর্মকর্তা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে টিকাদানের সাথে জড়িত থেকে বিদেশগামী যাত্রীদের টিকা প্রদানের তারিখ এদিক সেদিক করে দেওয়ার কথা বলে ২ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে। বিশেষ করে নাটাই উত্তর ইউনিয়নের এক ব্যক্তি টিকার সিরিয়াল এগিয়ে দেওয়ার কথা বলে বহু মানুষের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করে এই অসাধু কর্মকর্তার উপযুক্ত শাস্তি দাবী করেন।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন জানান, আমি কিছু কিছু বিষয় জেনেছি। শিগগিরই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল জেলার সর্ববৃহৎ সেবাদান কেন্দ্র। এই হাসপাতালের এলাকার ভেতরে করোনা ভাইরাসের টিকা প্রদান করতে একটি কক্ষ নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে শুক্রবার ও সরকারি বন্ধের দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের টিকা প্রদান করা হয়। এই কেন্দ্রে হাসপাতালের নার্সরা ছাড়াও কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) ও রেড ক্রিসেন্টের কর্মীরা সহায়তা করেন। টিকা নিতে আগ্রহী মানুষের তুলনায় মজুত সীমিত থাকায় এক শ্রেণির মানুষ এই সুযোগ নিচ্ছে। আর তাদের ঘিরে টিকা কেন্দ্রে গড়ে উঠছে অসাধু চক্র। তারা টাকার বিনিময়ে টিকার এসএমএস দিচ্ছে। আবার টাকার বিনিময়ে টিকার ব্যবস্থা করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এই চক্রের কারণে টিকা নিয়ে মানুষের মাঝে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

digital

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *