শুক্রবার , ৫ই মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,২০শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ছেলের জন্য মায়ের অমানবিক শাস্তি! অবশেষে মামলা নিল পুলিশ

 ছেলের জন্য মায়ের অমানবিক শাস্তি! অবশেষে মামলা নিল পুলিশ


ডিঃব্রাঃ ডেস্কঃ
তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বাচ্চা ছেলের সাথে ঝগড়ার জেরে অমানবিক শাস্তি দেওয়া হয়েছে মাকে। প্রথমে হাত-পা বেধে শারীরিক নির্যাতন, এরপর ব্লেড দিয়ে খুচিয়ে করা হয় রক্তাক্ত জখম। এমন অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছিল রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের বিরাসার এলাকায়। চাচার নির্যাতনের শিকার হয়ে শান্তা আক্তার (২৫) নামে ওই গৃহবধূ এখন হাসপাতালের বিছনায় অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। শান্তা সদর উপজেলার শিলাউর গ্রামের রাসেল মিয়ার স্ত্রী। ঘটনার ৩দিন পর মামলা নিয়েছে সদর থানা পুলিশ।

নির্যাতিতার মা রোশেনা বেগম বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ৩ জনকে নামীয় ৪/৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে মামলাটি দায়ের করা হয়। ইতিমধ্যে এই মামলায় আলী মিয়া (৩৫) নামে এক আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার অন্য দুই আসামী হলেন হুমায়ূন মিয়া (৪০), রতন মিয়া (৫০)। বুধবার দুপুরে আসামী আলী মিয়াকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মামলাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মুজিবুর রহমান তদন্ত করছেন।

এই ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রহিম জানান এই মামলায় একজন নামীয় আসামীকে গ্রপ্তার করা হয়েছে। পাশপাশি বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

উল্লেখ:-কয়েক মাস আগে শান্তার ছোট ছেলের সঙ্গে তাঁর আপন চাচা হুমায়ূন মিয়ার ঝগড়া হয়। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটে। ওই ঘটনায় হুমায়ূনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন শান্তার পরিবার। মামলাটি তুলে নিতে চাপ দিয়ে আসছিলেন হুমায়ূন। এর জেরে রবিবার সন্ধ্যায় শান্তা ডাক্তার দেখানোর জন্য আত্মীয়ের বাসা থেকে জেলা শহরে আসার সময় বিসারাস এলাকায় তাঁর পথরোধ করেন হুমায়ূন ও তাঁর সহযোগীরা। পরে শান্তার হাত-পা বেধে তাঁকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করা হয়।

একপর্যায়ে শরীরের বিভন্ন স্থানে ব্লেড দিয়ে খুচিয়ে রক্তাক্ত করা হয় শান্তাকে। এ সময় শান্তার আর্তচিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন ছুটে আসলে হুমায়ূন ও তাঁর ঘটনাস্থল থেকে সহযোগীরা পালিয়ে যান। পরে তাঁকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপতালে ভর্তি করা হয়। শান্তার মা রোশেনা বেগম জানান, মারামারির ঘটনায় মামলা তুলে নিয়ের জন্য হুমায়ূন চাপ দিচ্ছিল। এর জের ধরে রাস্তায় শান্তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে ব্লেড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে খুচিয়ে রক্তাক্ত করেছে।

digital

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *