গুজব কি আর মুর্খরা ছড়ায়। গুজবতো আমরা শিক্ষতরাই ছড়াই।

2

মনিরুল ইসলাম শ্রাবণ

প্রথম পর্ব

“রানীর পেটে কালো একটি ছেলের জন্ম হয়েছে”। কথাটি লোক মুখে ঘুরতে ঘুরতে এক সময় হয়ে যায় “রানীর পেটে কাকের মত কালো একটি ছেলের জন্ম হয়েছে”। আরো লোকের মুখে ঘুরতে ঘুরতে হয় “রানীর পেটে কাকের জন্ম হয়েছে”। রাজার কাছে সত্য খবরটি আর পৌছায় না। রাগে, দুঃখে, ক্ষোভে মিথ্যা তথ্যর উপর ভিত্তি করে, রাজা আদেশ দেন, কাকটিকে (সন্তানটিকে) হত্যা করো। রানীকে বনবাসে পাঠাও।রাজার আদেশ পালিত হয়।

মিথ্যা গুজবে একটি নবজাতকের মৃত্যু হয়। একজন অবলা নারী সংস্যার চ্যুত হয়। একজন শাসক অন্যায় বিচার করেন।এজন জল্লাদ হত্যার আপরাধী হোন। দোষটি ছিলো কার। রাজার, জল্লাদের, রানীর, শিশুটির, নাকি গুজব রটনা কারীদের। এসব গল্প শুনে, পড়েই তো আমরা বড় হয়েছি। লেখাপড়া পড়ে শিক্ষিত হয়েছি। শিক্ষিত হয়ে সোস্যাল মিডিয়ায় “আধুনিক পদ্ধতিতে” গুজব ছড়াচ্ছি।

কোথাও একটি ঘটনা ঘটে, কেউ একটি কথা বলে। আমরা বিষয়টিকে লুফে নিই। বিষয়টির পক্ষে বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে নিজেরাও সেটা প্রচার করি। সঙ্গে জুরে দেই নিজেস্ব মতামত। মূল ঘটনাটি যে রকম সংগঠিত হয়েছে, সেরকম আর থাকে না। হয়েছে এক রকম, আমাদের কারণে অন্যদের কাছে পৌছায় আরেক রকম।

সামাজিক মাধ্যম গুলিতে লেখালেখি কি মূর্খরা করে। ছবি এডিটং, ভিডিও এডিটিং কি আর মুর্খরা করে ? গুজব কি আর মুর্খরা ছড়ায়। গুজবতো আমরা শিক্ষতরাই ছড়াই। কোথাও একটি বাজে ঘটনা ঘটলে, কেউ কোন অন্যায় আচরণ করলে, দেশ, জাতি ধর্ম নিয়ে কেউ বিরুপ মন্তব্য করলে, সেটি সেখানেই সমাধান করা উচিৎ।সব কিছুই কেন সোস্যাল মিডিয়ায় প্রচার করতে হবে।

কোন কিছু বলার আগে, কিছু লিখার আগে, শেয়ার দেয়ার আগে যাচাই করুন। আর কোন বিষয়ে অভিজ্ঞ না হলে নিজেস্ব মতামত দিবেন না। মনে রাখবেন “নিমে মোল্লা খতরায়ে ঈমান, নিমে ডাক্তার খতরায়ে জান”। ফার্সি এই প্রবাদের অর্থ “আধা মোল্লা মানুষের ঈমান ধংস করে, আর আধা ডাক্তার মানুষের জীবনের ক্ষতি করে”। আপনি আমি আধা জ্ঞানী হয়ে, সবজান্তা সেজে সমাজের ক্ষতি করছি না তো।

পবিত্র কাবা ঘড়কে অবমাননা করে একটি ব্যঙ্গ চিত্র কেউে একে ছিলো। (আউজুবিল্লাহ) কেউ আল্লাহ্ আর রাসুল (সাল্লাল্লাহ ওয়ালাই ওয়াসাল্লাম) কে গালি দিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলো। (আউজুবিল্লাহ)। একদল মানুষ তাদের বিচার চেয়ে সেই ছবি আর পোস্ট গুলি শেয়ার দিয়েছিলো। এসব ছবি এক হাত দু-হাত করে আমাদের কাছে পৌছলে আমাদের ভিতর প্রচন্ড খারাপ লাগা কাজ করে। মূল আসামী আমাদের হাতের কাছে নাই। হাতের কাছে অমুসলিম যাদের পেয়েছি, তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছি। তাদের ঘরবাড়ি উপাসানালয় ধংস করেছি।দোষা কি তাদের ছিলো। অথচ মূল ঘটনা যেখানে, মূল আসামী যেখানে সেথানেই তো সমস্যা সমাধান করা যেতো। অন্যায়কারীকে ধরে আইনের কাছে সোর্পদ করা যেতো। তার আইডি থেকে পোস্ট গুলি ডিলেট করে দিলেই তো চলতো।

আচ্ছা সেই ব্যক্তিইবা কেমন মুসলমান, যে কিনা নিজ ধর্মের অপমানজনক ছবি শেয়ার করে। তার বিবেকে কি একটুও বাঁধে না। তার কাছে আমার একটি প্রশ্ন আপনার মা,বোন,কন্যা যদি কারো দ্বারা নিযার্তিত হয়। তাহলে সেই নির্যতনের ছবি বা ভিডিও কি আপনি শেয়ার করবেন। আর সঙ্গে ক্যাপশন লিখে দিবেন “দেখুন আমার মেয়ে কে, বোন কে ধর্ষণ করা হয়েছে। আপনাদের কাছে বিচার চাই। নিশ্চয় তা করবেন না। তাহলে অন্যান্য ক্ষেত্রে কেন করেন। র্স্পকাতর বিষয় কেনো শেয়ার করেন। যা গুজব হয়ে সমাজের শান্তি শৃংখলা নষ্ট করে।

আমাদের বুজতে হবে সব কিছু শেয়ার করা যায় না, সব কিছুতে নিজের মতামত দেয়া যায় না। সব কিছু সবাইকে জানাতে হয় না। কিছু সমস্যা চুপে চুপেই সমাধান করে নিতে হয়। তবে এ কথাও ঠিক যে কিছু সমস্যা এমন আছে, যা স্থানীয় ভাবে সমাধান করা যায়। সে ক্ষেত্রে জনমত তৈরী করার জন্য সেটি ভাইরাইল করা যেতে পারে। তাই কি শেয়ার করা যায় বা কতটুকু করা যায় আর কি শেয়ার করা যায় না সেই বোধটি আমাদের সকলের থাকতে হবে।

দ্বিতীয় পর্ব- নোভেল করোনায় পর্যুদস্ত বিশ্ব ও আমাদের রসিকতা।

……………………………….পড়তে চোখ রাখুন আগামী কাল।

2 মন্তব্য

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে