সোমবার , ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

খোলা আকাশের নিচে পৌর পরিষদের প্রথম সভা ও মেয়রের দায়িত্বভার গ্রহণ

 খোলা আকাশের নিচে পৌর পরিষদের প্রথম সভা ও মেয়রের দায়িত্বভার গ্রহণ

হেফাজতের তান্ডবের আগুনে পুড়ে ভস্মিভূত দেশের প্রথম ও প্রাচীণতম ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার
নব নির্বাচিত পৌর পরিষদের প্রথম সভা ও মেয়রের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন খোলা আকাশের নিচে বসে

ডিঃব্রাঃ ডেস্কঃ
গত ২৮ মার্চ হেফাজতের ডাকা হরতাল চলাকালীন সময়ে হেফাজতের তান্ডবের আগুনে পুড়ে ভস্মিভূত ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার নব নির্বাচিত মেয়রের দায়িত্বভার গ্রহণ ও পৌর পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে খোলায় আকাশের নিচে রাস্তায় বসে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় দেড়শ বছরের ইতিহাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রথম নির্বাচিত নারী মেয়র দ্বিতীয় বারের মতো বিজয়ী হয়ে নতুন মেয়াদের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
এ সময় পৌর পরিষদ, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সম্মানীত সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

দায়িত্বভার গ্রহণ শেষে উপস্থিত উদ্দেশ্যে বক্তব্যে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা একটি প্রাচীণতম ঐতিহ্যবাহী পৌরসভা। এই পৌরসভায় আমার স্বামী প্রয়াত আলহাজ্ব এড. হুমায়ুন কবির দুই দুইবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। আমি তার সহধর্মিনী হিসেবে ২০১৬ সালের পৌর নির্বাচনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বস্তরের নাগরিকগণের সহযোগিতায় সফলতার সহিত দায়িত্ব পালন করতে পেরেছি।

বিগত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ইং তারিখে পৌর নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উন্নয়নের রূপকার তিতাসপাড়ের গণমানুষের প্রিয়নেতা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি র. আ. ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপি, সাধারণ সম্পাদক যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা জননেতা আল-মামুন সরকার ও দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা এবং সম্মানীত পৌরবাসীর দোয়া ও ভোটে দ্বিতীয় বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছি।

কিন্তু দুঃখ ও ভারাক্রান- হৃদয়ে জানাচ্ছি যে, আজকে দ্বিতীয়বারের মতো আমার এই দায়িত্বভার অনুষ্ঠান আনন্দের হলেও এটি নস্যাৎ করে দিয়েচে গত ২৮ মার্চের হেফাজতের তান্ডবে ইতিহাসে নজিরবিহীন ন্যাক্কারজনক ঘটনায়। তাদের ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভা-টি আজ প্রাণহীন ধ্বংসস্তপে পরিণত হয়ে পড়ে আছে। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সকল নথিপত্র, রেকর্ডপত্র ও দেড়শ বছরের ঐতিহ্যকে। এই ঘটনার দুঃখ প্রকাশ করার ভাষা নেই। একটি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে এভাবে ভস্মিভূত করে দেবে এটা ভাবা যায় না। বর্তমানে পৌর ভবনটি ঝুকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যে কোন সময় ধসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাই বাধ্য হয়েই আজ খোলা আকাশের নিচে রাস্থায় বসে আমি দ্বিতীয়বারের মতো মেয়রের দায়িত্বভার গ্রহণ করছি।

তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে বর্তমানে পৌর নাগরিকগণ পৌরসভার সকল নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তার জন্য আমি পৌর নাগরিকদের প্রতি আন-রিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যেই নাগরিক সেবা চালু করা হবে। এ জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা একান-ভাবে কামনা করছি। সকলের সহযোগিতা না থাকলে ধ্বংসস্তপে পরিণত এই পৌরসভার সেবা দ্রুতকরণ সম্ভবপর হবে না।

আমি নব নির্বাচিত পৌর পরিষদকে নিয়ো পৌরসভার সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পৌর এলাকার সর্বস্তরের নাগরিকদের সহযোগিতায় এই পৌরসভাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আর ধ্বংসস্তপে পরিণত এই পৌরসভাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণলায়সহ সকলের সহযোগিতা একান-ভাবে প্রয়োজন।

digital

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *