বুধবার , ২৮শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,১৩ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কোভিড-১৯ সরাইলে দ্বিতীয় ডোজ টিকার জন্য ঘুরছেন ১০০০ লোক!

 কোভিড-১৯ সরাইলে দ্বিতীয় ডোজ টিকার জন্য ঘুরছেন ১০০০ লোক!

ডিঃব্রাঃ
কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউয়ে-এ কাঁপছে দেশ। বিভিন্ন জেলায় চলছে লকডাউন। আর করোনার দ্বিতীয় ডোজের টিকার জন্য ঘুরছেন ১ হাজারেরও অধিক নারী পুরূষ। কারণ গত ৯ জুন থেকে টিকা দেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। বিলম্বে দ্বিতীয় ডোজ নিলে সমস্যা হওয়ার আতঙ্কে ভুগছেন লোকজন। আর কর্তৃপক্ষ বলছেন অপেক্ষা করূন। বিলম্বে কোন সমস্যা হবে না। হাসপাতাল ও প্রথম ডোজ গ্রহনকারী লোকজন সূত্রে জানা যায়, দেশে ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাস থেকে করোনার প্রাদূর্ভাব দেখা দেয়। দ্রূত বৃদ্ধি পেতে থাকে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা।

২০ খ্রিষ্টাব্দের ৪ এপ্রিল থেকে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা শুরূ হয়। শুরূ থেকে এখন পর্যন্ত এ কাজটি করছেন মেডিকেল টেকনোলজিষ্ট দেবাঙ্কর শর্মা। দেবাঙ্কর জানান, এ পর্যন্ত ১১৫৭ জনের করোনা টেষ্ট করা হয়েছে। করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে ১৯১ জনের। ২ জন মারা গেছেন। আর বাকিরা সুস্থ্য হয়েছেন। গত ৮ এপ্রিল পর্যন্ত টিকার প্রথম ডোজ গ্রহন করেছেন ৫৫২৯ জন।

এদের প্রত্যেকেই ৮ সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ টিকা গ্রহণ করার কথা। ৪৫১৪ জন নারী পুরূষ দ্বিতীয় ডোজ টিকা গ্রহণ করেছেন। দ্বিতীয় ডোজ টিকা গ্রহণের কর্মসূচি চলমান অবস্থ্য গত ৯ জুন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সরাইল হাসপাতালে টিকা দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। বিপাকে পড়েছেন ১ হাজার ১৫ জন। তারা এখন ঘুরছেন। টিকার জন্য হ্যাঁ হুঁতাশ করছেন। অনেকে আশঙ্কা করছেন আর মনে হয় টিকা দেওয়া যাবে না। আর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন হতাশ হওয়ার কিছু নেই। অপেক্ষা করূন। দ্বিতীয় ডোজ নিতে পারবেন।

তবে টিকা নেওয়ার জন্য নতুন ভাবে কোন নিবন্ধন হচ্ছে না। এটা কবে হবে নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না। সরজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের পোষ্ট অপারেটিভ রূম অর্থাৎ গর্ভবতী মহিলাদের অপারেশন পরবর্তী পর্যবেক্ষণ কক্ষটিই এখন আইসোলেশন কক্ষ। ৩ সিটের আইসোলেশন কক্ষের অবস্থা খুবই করূন। সিটে ও ফ্লোরে বালির স্তপ। ১টি মাত্র বৈদ্যুতিক ফ্যান বিকল। ছত্রাকে ভরা কক্ষে দূর্গন্ধ। দরজা ভাঙ্গা ল্যাট্রিনটি ব্যবহার অনুপযোগি।

অথচ কিছু উপজেলা পর্যায়ে আইসোলেশন কক্ষ প্রস্তুত বা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্ধ থাকার কথা ছিল। শুধুমাত্র একজন করোনা রোগীকে জরূরী মূহুর্তে সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। ৫ জন রোগী রাখার ব্যবস্থার কাজ চলমান আছে। অক্সিজেনের বোতল মজুদ আছে ১৬টি। জনৈক ব্যক্তি ১টি অক্সিজেন কনসেনটেটর হাসপাতালকে দিয়েছেন। সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো. নোমান মিয়া বলেন, আইসোলেশন কক্ষের জন্য কোন বরাদ্ধ পায়নি। বরাদ্ধ থাকলেও সেটা ফেরৎ যাবে।

এরপরও এ বিষয়ে আরো জানতে হবে। রোগী রাখার জন্য বর্তমানে আইসোলেশন কক্ষটি পুরোপুরি প্রস্তুত আছে। কক্ষে অক্সিজেনের একটি বোতলও আছে। জাইকার অর্থায়নে হাসপাতালে ২০টি বেডকে সেন্ট্রাল করে দেওয়ার কথা দিয়েছে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান।

মাহবুব খান বাবুলঃ

digital

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *