সোমবার , ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কসবায় হত্যা মামলার ৫ আসামি গ্রেপ্তার

 কসবায় হত্যা মামলার ৫ আসামি গ্রেপ্তার

ডিঃব্রাঃ ডেস্কঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মূলগ্রাম ইউনিয়নের নিমবাড়ি গ্রামের ফয়েজ মিয়া-(৬০) হত্যা মামলার আসামী আশরাফুল-(৩০) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার রাতে ঢাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আশরাফুল নিমবাড়ি গ্রামের আওয়াল মিয়ার ছেলে। এনিয়ে এই হত্যা মামলার দুই আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে গত রোববার রাতে মামলার আসামী ইমন চৌধুরীকে নিমবাড়ি গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইমন নিমবাড়ি গ্রামের মৃত মাজু চৌধুরীর ছেলে।

অপরদিকে ফয়েজ মিয়া হত্যাকান্ডের পর উত্তেজিত গ্রামবাসী আসামীদের বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে। এ ঘটনায় ফয়েজ মিয়া হত্যা মামলার এক আসামীর স্ত্রী জুমেলা খাতুন একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলার ৩ আসামীকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার বিকেলে নিমবাড়ি গ্রাম থেকে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, রুস্তম মিয়া, শামীম মিয়া ও শরিফ মিয়া।

গত ১৩ মার্চ সকালে নিমবাড়ি গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় বৃদ্ধ ফয়েজ মিয়া নিহত হন।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কসবা উপজেলার নিমবাড়ি গ্রামের পান্ডুর গোষ্ঠীর লোকদের সাথে এই গ্রামের কাবিলা গোষ্ঠীর লোকজনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। এই বিরোধের জের ধরে ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল দুই গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষে পান্ডুর গোষ্ঠীর লাবু মিয়ার ছেলে রহিজ মিয়া মারা যায়। এ ঘটনায় নিহত রহিজ মিয়ার স্ত্রী বাদি হয়ে ২০জনের বিরুদ্ধে কসবা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। এই মামলার ১ নং স্বাক্ষী ছিলেন নিহত রহিজ মিয়ার বড় ভাই ফয়েজ মিয়া।

রহিজ মিয়া হত্যা মামলার আসামীরা (কাবিলা গোষ্ঠীর) দীর্ঘদিন কারাভোগ করে মাস দুয়েক আগে আদালত থেকে জামিন পেয়ে বাড়িতে আসেন। এরপর থেকে আসামীরা রহিজ মিয়া হত্যা মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য প্রতিপক্ষের উপর চাপ প্রয়োগ করেন। পান্ডুর গোষ্ঠীর লোকজন রাজী না হওয়ায় গত ১৩ মার্চ শনিবার সকালে কাবিলা গোষ্ঠীর লোকজন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে পান্ডুর গোষ্ঠীর লোকজনের বাড়িতে হামলা করে। এ সময় টেটার আঘাতে রহিজ মিয়া হত্যা মামলার ১ নং স্বাক্ষী ও রহিজ মিয়ার বড় ভাই ফয়েজ মিয়া-(৬০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

এ ঘটনায় পরদিন নিহতর স্ত্রী রেখা বেগম বাদি হয়ে ৩০জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আলমগীর ভূঞা বলেন, ফয়েজ মিয়া হত্যা মামলার আসামীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে। এই মামলায় এখন পর্যন্ত দুইজন আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। অপর দিকে ফয়েজ মিয়াকে হত্যার পর উত্তেজিত গ্রামবাসী আসামীদের বাড়ি ভাংচুর করে। এ ঘটনায় জুমেলা খাতুন নামে এক মহিলা ৩৮ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার ৩জন আসামীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

digital

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *