মঙ্গলবার , ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

করোনা কালেও দেশ ও বিশ্বজুড়ে সমালোচনা নবীনগরে পা কেটে জয়বাংলা মিছিল


ডিজিটাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া ডেস্কঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলায় একটি গ্রামীণ সংঘর্ষের ঘটনার সময় মোবারক মিয়া নামে এক ব্যক্তির পা কেটে জয়বাংলা শ্লোগানও মিছিল সমালোচনার জন্ম দেয় দেশ ও বিশ্বজুড়ে। কাটা পা নিয়ে গ্রামের অলিগলিতে হয়েছে আনন্দ মিছিলও মিষ্টি বিতরণ।

করোনা কালে গত ১২ এপ্রিল এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান ও এলাকার সর্দার আবু কাউছার মোল্লার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিলো। ইতিমধ্যে উভয়পক্ষের মধ্যে একাধিক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছিল। বহু হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের থানাকান্দি গ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ঐ দিন উভয়পক্ষে কমপক্ষে ৫০ জন আহত হয়ে ছিল।

সংঘর্ষ চলাকালে দু’পক্ষের লোকজনের মধ্যে ভয়ানক এক সংঘর্ষে একাধিক বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে স্থানীয় সর্দার কাউছার মোল্লার পক্ষের লোকজন হাজির হাটির চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমানের পক্ষের মোবারক হোসেনকে (৪৫) ধাওয়া করে। আত্মরক্ষার্থে বাড়িতে আত্মগোপন করলেও তার বাড়িতে প্রবেশ করে তার ডান পা টাকশাল দিয়ে গোড়ালি থেকে কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। পরে কাটা পা নিয়ে গ্রামের সড়কে সড়কে জয় বাংলা বলে মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করে। এই ঘটনায় সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে ছিল।


সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশত আহত হয়েছে। আহতদের নবীনগর ও জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্নস্থানে প্রেরণ করা হয়ে ছিল। সংর্ঘষ কালে ১০-১৫ টি বাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

মোবারক হোসেন নামে ঐ ব্যক্তির পা কেটে জয়বাংলা শ্লোগানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে দেশ ও বিদেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে নিয়ে ট্রল করা শুরু হয়। ঘটনার ৪দিন পর আহত মোবারক হোসেন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে ১৫ এপ্রিল রাত ১.৩০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গিয়ে ছিলেন।

এই ঘটনায় দুইটি মামলা দায়ের করা হয়। একটি পুলিশ বাদী নবীনগর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মোজ্জামেল হোসেন অন্যটি নিহত মোবারক হোসেনের চাচা চান মিয়া বাদী হয়ে নবীনগর থানায় এই মামলা দুইটি দায়ের করেন। মামলা দুইটি বর্তমানে নবীনগর থানা পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রহুল আমিন তদন্ত করছেন। পুলিশ দাবি করছেন, এই ঘটনায় দুইটি মামলায় ৮০জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিল্লুর রহমান, তার প্রতিপক্ষের প্রধান আবু কাউছার মোল্লা ও পাশ্ববর্তী বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী কবির আহাম্মেদও গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

এই ব্যাপারে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) মো. মকবুল হোসেন বৃহস্প্রতিবার দুপুরে যোগাযোগ করলে তিনি জানান এই ঘটনায় দুইটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলা দুটি নবীনগর থানা পুলিশ তদন্ত করছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযোগ পত্র আদালতে জমা দেওয়া হবে।…//ডিঃব্রাঃ

digital

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *