সোমবার , ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

কঠোর লকডাউনে স্বাভাবিক সরাইল মহাসড়কে বেপরোয়া অটোরিকশা

 কঠোর লকডাউনে স্বাভাবিক সরাইল মহাসড়কে বেপরোয়া অটোরিকশা

ডিঃব্রাঃ
তৃতীয় দফা কঠোর লকডাউনে সরাইলে যানবাহন চলাচল ছিল একেবারে স্বাভাবিক। আর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইলের বিশ্বরোড মোড় থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জ ভৈরব সরাইল নাসিরনগর ও কুট্রাপাড়া হাইওয়ে থানার সামনে থেকে চান্দুরা মাধবপুরের দিকে বেপরোয়া গতিতে চলছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা। নির্বিঘ্নে পুলিশের উপস্থিতিতেই চলছে এসব যানবাহন। চলছে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাও।

প্রত্যেক অটোরিকশায় চালকসহ ৬ জন। কোথায় সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক। কঠোর লকডাউনে মহাসড়কে কেন? চালকদের সাফ জবাব গাড়িতে ভাইয়ের (সাংবাদিক পরিচয়দানকারী ব্যক্তি) নম্বর আছে। ভাইয়েরা আশেপাশেই কোথাও বসে আছেন। তাই কোন ভয় নেই।

আজ শুক্রবার সরজমিনে সকাল ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সরাইলের সড়ক মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায়, আগের ১৪ দিনের লকডাউন থেকে আরো ঢিলেঢালা ভাবে চলছে এখনকার কঠোর লকডাউন। সরাইলের প্রধান সড়কে অটোরিকশা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে যাত্রীদের ডাকছেন। নির্বিঘ্নে নিশ্চিন্তে গিজাগিজি করে যাত্রী নিয়ে যাচ্ছেন চুন্টা অরূয়াইল ও পাকশিমুল। স্বাভাবিক ভাবেই তারা চলছে সড়কে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের চিত্র আরো ভিন্ন।

কুট্রাপাড়া মোড় এলাকায় হাইওয়ে থানার সামনে পুলিশের উপস্থিতিতেই মহাসড়কে ৬-৭টি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ইচ্ছেমত যাত্রী টানছে। যাবে শাহবাজপুর, চান্দুরা ও মাধবপুর। অপরদিক থেকে খুবই স্বাচ্ছন্দে যাত্রী নিয়ে আসছেন চালকরা। চালকদের মধ্যে কোন টেনশন বা চাপ নেই। ফুরফুরা মেজাজে আছেন তারা। যাত্রীদের ডাকছেন আর হাঁসছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নিজেদেরকে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী কতিপয় ব্যক্তি অন্যের সিএনজির দায়িত্ব নিয়ে ব্যবসা করছেন। কেউ ৫টি, ১০টি, ১৫টি, ২০টি। অনেকে প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির পরিচয় দিয়ে ৪০-৫০টিরও দায়িত্ব নিয়ে রেখেছেন। বিনিময়ে বিশাল বাণিজ্যে ডুবে আছেন তারা। চুক্তি প্রত্যেক সিএনজি মাসে দিবে ৩ হাজার টাকা। পুলিশকে দিবেন ১ হাজার টাকা। নিজেরা রাখবেন ২ হাজার টাকা। হাইওয়ে থানার ‘মো’ আদ্য অক্ষরের জনৈক পুলিশ কর্মকর্তার সাথে চলছে এ বাণিজ্য।

বিনা পুঁজিতে তারা মাসে ১০/২০/৪০/৫০ হাজার কামাই করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন একাধিক চালক ও মালিক। আর ওইসব অটোরিকশা গুলোই লকডাউন চলাকালে মহাসড়কে নিশ্চিন্তে বেপরোয়া গতিতে চলে। বিশ্বরোড মোড়ের তিন দিকে মহাসড়কের উপর দাঁড়িয়ে আছে ১৫-২০টি করে সিএনজি চালিত অটোরিকশা।

ঠাসাঠাসি করে যাত্রীরা যাচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে, আশুগঞ্জ ও ভৈরবে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সেনা সদস্যদের নিয়ে বিশ্বরোড মোড়ে অবস্থান নেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রাজ কুমার বিশ্বাস। তিনি হাইওয়ে থানার পুলিশ সদস্যদের ডেকে এনে বলেন, মহাসড়কে কোন অটোরিকশা চলবে না। চললে ব্যবস্থা নিবেন। তখনও মোড়ের পশ্চিম দক্ষিণ পাশে ৮-১০টি অটোরিকশা অবস্থান করছিল।

খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজালাল আলম বলেন, লকডাউন চলাকালে অটোরিকশা কেন যন্ত্রচালিত কোন যানই অনুমতি ব্যাতিত বা যৌক্তিক কারণ ছাড়া বের হতে পারবে না। কিছু লোক নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘ সময় থানায় বা আশপাশে বসে থাকেন। তাদের কোন কাজ আছে কিনা জানি না। কতিপয় ব্যক্তি থানার জনৈক পুলিশ সদস্যের সাথে কথা বলে অটোরিকশা থেকে মাসিক টাকা উত্তোলন করে ভাগবাটোয়ারার বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খুঁজ খবর নিয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নিব।

মাহবুব খান বাবুলঃ

digital

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *