রবিবার , ১১ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,২৮শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ইয়াবা দিয়ে যুবককে ফাঁসানোর চেষ্টা, উল্টো আসামি তিন যুবক

 ইয়াবা দিয়ে যুবককে ফাঁসানোর চেষ্টা, উল্টো আসামি তিন যুবক

ডিঃব্রাঃ ডেস্কঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় ফারুক মিয়া (২৮) নামের এক যুবককে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে উল্টো মামলার আসামী হয়েছেন তিন যুবক। এই ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে ঘটনার জালাল মিয়া নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। জালাল মিয়া (৩০) জেলার নবীনগরের ধরাভাঙ্গা গ্রামের ইদ্রিস মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার জয়কালিপুর গ্রামের মোহাম্মদ কবিরের ছেলে মোহাম্মদ ফারুক একটি মোটরসাইকেল বিক্রি করতে চাচ্ছিলেন। এ খবর পেয়ে বুধবার জালাল মিয়া মোটরসাইকেলটি কিনবেন বলে তাকে যেতে বলেন। পরে ফারুক মোটরসাইকেল নিয়ে ক্রেতা জালালের কাছে যান। পরে মোটরসাইকেলটি পছন্দ হয়েছে বলে জানায় তারা।

এসময় মোটরসাইকেল বিক্রয়ের টাকা দেয়ার কথা বলে বিক্রেতা ফারুককে মেঘনা নদীর তীরবর্তী এমপি টিলা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিক্রেতা ফারুককে টাকা আনার কথা বলে দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখেন। এই ফাঁকে ক্রেতা জালাল ও তার সাথে থাকা অন্যান্যরা নবীনগরের সলিমগঞ্জ ফাঁড়িতে ফোন দিয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ আসার আগ মূহুর্তে মোটরসাইকেল বিক্রেতা ফারুকের পকেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

পরে মোটরসাইকেল বিক্রেতা ফারুকের পরিবারের সদস্যরা নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকবল হোসেনকে বিষয়টি অবহিত করেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুকবল হোসেন বৃহস্পতিবার বিষয়টি তদন্ত করে আসল ঘটনা উদঘাটন করেন। এই বিষয়ে জিজ্ঞসাবাদ করলে তারা ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর কথা স্বীকার করেন।

নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রশিদ জানান, আসল ঘটনা উদঘাটনের পর উল্টো মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলায় বিক্রতা ফারুক বাদী হয়েছেন। শুক্রবার জালাল মিয়াকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন-নবীনগরের ধরাভাঙ্গা গ্রামের আফসার মিয়ার ছেলে মো. ফারুক (২৮) ও জজ মিয়ার ছেলে লালন মিয়া (২৭)।

এই বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) মকবুল হোসেন বলেন, ‘একজন নিরপরাধ ছেলেকে ফাঁসানো হয়েছে বলে আমাকে জানানো হয়। আমি তাৎক্ষণিক অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসে। জালাল নামের একজনকে আটক করা হলে, সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন’।

তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয়রা জানিয়েছে, এই চক্রটি মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত আছে ৷ অন্য আসামীদের গ্রেফতার করতে অভিযান অব্যাহত আছে’।

digital

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *