মঙ্গলবার , ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,৬ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

আশুগঞ্জ-আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত চারলেন পাথর পরিবহন, কার কাজ কে, করে

 আশুগঞ্জ-আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত চারলেন পাথর পরিবহন, কার কাজ কে, করে

ডিঃব্রাঃ ডেস্কঃ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জ-আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত চারলেন রাস্তা নির্মাণ কাজের জন্য পাথর সরবরাহ পরিবহন কাজে নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। প্রথমে এই কাজটি স্থানীয় মের্সাস কাশেম মোল্লা ট্রের্ডাসের সাথে চুক্তি হলেও এখন কাজটি করছেন বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল অনার্স এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি নাজমুল হোসেন হামদু।

অভিযোগ উঠেছে প্রভাব বিস্তার করে কাজটি ভাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। তবে নদী বন্দরের স্থানটিতে জেটি স্থাপন করা হয়েছে এই ব্যাপারে অবগত নন বলে জানান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডবিউটিএ)। যদিও নাজমুল হোসেন হামদু দাবি করছেন যথা নিয়মে তিনি কাজটি পেয়েছেন।

তাছাড়া জেটি বিষয়ে তিনি বিআইডবিউটিএ থেকে অনুমিত নিয়েছেন। জানা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জ-আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত চারলেন রাস্তা নির্মাণ কাজের জন্য ভারত থেকে নদী পথে পাথর বহনের কাজটি পেয়েছেন চট্রগ্রামের মার্স শিপিং এন্ড লজিস্টিকস নামে একটি প্রতিষ্ঠান।

মার্স শিপিং এন্ড লজিস্টিকসের স্বত্বাধিকারী আলাউদ্দীন-আল-আজাদ গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ লঞ্চঘাটে অধীনে জেটি ঘাট ব্যবহার করে পাথর উত্তোলন করার জন্য ৬ মাসের জন্য স্থানীয় মের্সাস কাশেম মোল্লা ট্রের্ডাসের স্বত্বাধিকারী মো. ইমরান মোল্লার সঙ্গে তিনশত টাকা মূল্যের স্টাম্পে চুক্তি করেন।

তাতে বলা হয় মের্সাস কাশেম মোল্লা ট্রের্ডাস এই কাজে প্রতি টনে ৬৫ টাকা করে পাবেন। তারা এই টাকায় জেটি মেরামত, জেটি অনুমতি, ইজারা বাথিং, যাবতীয় কমিশন, স্থানীয় সমস্যা সমাধান, জেটি রাস্তা সংস্কার ও ঘাট থেকে ডাম্পি ইর্য়াড ও সাইড ব্রাহ্মণবাড়িয়া (সোনারামপুর, পৈরতলা, বাসস্ট্যান্ড এর আশ পাশে শ্রীরাম) পর্যন্ত নির্বিঘ্নে গাড়ির মাধ্যমে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রাথমিক ভাবে এই কাজের জন্য অগ্রীম জমানত হিসাবে মার্সশিপিং এন্ড লজিস্টিকস চুক্তিবুদ্ধ প্রতিষ্ঠান মের্সাস কাশেম মোল্লা ট্রের্ডাসকে পাচঁ লাখ টাকা প্রদান করে। চুক্তিতে বলা হয় চলতি বছরে ৩১ জানুয়ারি কাজ শুরু হবে। মেয়াদ শেষ হবে ৩১ জুলাই। মের্সাস কাশেম মোল্লা ট্রের্ডাস ইতিমধ্যে এই কাজের জন্য জেটি মেরামত, সড়ক সংস্কারসহ যাবতীয় কাজ করে প্রস্তুতি গ্রহন করে রেখেছে।

তার জন্য তাদেরকে দেওয়া জমানত বাবদ ৫ লাখ টাকাসহ আর মোট বিশ লাখ টাকা খরচ হয়েছে তাদের। তবে করোনার জন্য যথাসময়ে কাজ শুরু হয়নি বলে তারা জানান। তার মধ্যে ১৯ জুলাই থেকে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল অনার্স এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি নাজমুল হোসেন হামদু।

অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল অনার্স এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি হওয়ার সুবাধে নাজমুল হোসেন হামদু প্রভাব বিস্তার করে কাজটি ভাগিয়ে নিয়েছেন। ১৯ জুলাই থেকে আশুগঞ্জ লঞ্চঘাট এলাকায় ৫টি লাইটার জাহাজ নৌঙ্গর করেছে। আরও ৩৫টি লাইটার জাহাজ মেঘনা নদীতে অবস্থান করছেন।

এই কাজ জেটি ঘাটে মের্সাস কাশেম মোল্লা ট্রের্ডাসের দাবি করলে মামলা মোকাদ্দমা ভয় দেখিয়ে হয়রানি করার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। তবে বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল অনার্স এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি নাজমুল হোসেন হামদু দাবি তিনি কাজটি মার্সশিপিং এন্ড লজিস্টিকস কাজ থেকে পেয়েছেন। তবে তার সাথে চুক্তির কোন কাগজ চাইলে তিনি দিতে অপরগতা প্রকাশ করেন।

এই সময় তিনি দাবি করেন একটি মাধ্যমে তিনি এই কাজটি পেয়েছেন। এই ব্যাপারে মের্সাস কাশেম মোল্লা ট্রের্ডাসে স্বত্বাধিকারী মো. ইমরান মোল্লা জানান আমার সাথে তিনশত টাকার স্টাম্পে দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। পাশপাশি প্রাথমিক ভাবে জমানত হিসাবে আমাকে পাঁচ লাখ টাকা প্রদান করে।

তবে বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল অনার্স এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি নাজমুল হোসেন হামদু প্রভাব বিস্তার করে এই কাজ আমার কাছ থেকে ভাগিয়ে নেন। এখন আমি ও আমার ভাইদের নামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল অনার্স এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি নাজমুল হোসেন হামদ জানান আমি নিয়মতান্ত্রিক ভাবে কাজটি নিয়েছি।

কোন ক্ষমতার অপব্যবহার করেনি। রেট কম দেওয়ায় তারা আমাকে কাজটি দিয়েছেন। পাশপাশি তিনি আরও বলেন মের্সাস কাশেম মোল্লা ট্রের্ডাসে স্বত্বাধিকারী মো. ইমরান মোল্লা সাথে চুক্তিটি ১৩ জুন শেষ হয়েছে। এরপর আমি কাজ পেয়েছি। এছাড়া জেটি বিষয়ে আমি বিআইডবিউটিএ থেকে অনুমোদন নিয়েছি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডবিউটিএ) আশুগঞ্জ-ভৈরব বাজার নদী বন্দরের উপ-পরিচালক মো. শহীদ উল্ল্যাহ বলেন, এই ঘাটে পাথর পরিবহন করার বিষয়টি আমাদের লিখিত ভাবে কোন অবগত করা হয়নি। এছাড়া নির্মাণাধীন জেটিও অবৈধ। এটা বিআইডবিউটিএ বৈধ কোন জেটি না। আমরা বিষয়টি কৃর্তপক্ষকে জানিয়েছি।

এই ব্যাপারে আশুগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা চলছে। দুই পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে কাজটি করার জন্য অনুরোধ করেছি।

digital

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *