সোমবার , ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ ,৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

আমার জানাজার জন্য হেফাজতির কাছে যাব না : এমপি মোকতাদির

 আমার জানাজার জন্য হেফাজতির কাছে যাব না : এমপি মোকতাদির

ডিঃব্রাঃ ডেস্কঃ
সোমবার (২৯ মার্চ) ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলেন হেফাজত ইসলাম ঘোষণা দিয়েছে কোন মৌলভী যেন আমার জানাজার নামাজ না পড়াতে। আমার জানাজার নামাজ তারা পড়াক আমিও তা চাইনি। আর আপনাদের বলে রাখি, কোনো মুসলমানের জানাজা নামাজ পড়াতে কোনো মৌলভীর সাহেবের প্রয়োজন নাই। যে কোনো মুসলমান জানাজার নামাজে দাঁড়িয়ে নিয়ত যদি বাংলায়ও করেন, যদি দোয়া না পারেন, তাহলে নামাজে দাঁড়িয়ে বলেন, আমি এই মাইয়াতের ক্ষমা প্রার্থনার জন্য জানাজার নামাজে দাঁড়ালাম তাহলেও হবে। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বললাম এই কথা।

জানাজার নামাজ নিয়ে আপনারা মাথা ঘামাবেন না। এই খানের (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) মোল্লারা নাকি বলেছেন, ছাত্রলীগের জানাজা নাকি পড়াবেন না। এখানে ছাত্রলীগের যারা আছে তাদের ঘাবড়ানোর কিছু নাই। তোমাদের জানাজার নামাজ তোমার বাবা-ভাই বা প্রয়োজন হলে আমি জানাজা পড়াব। সুতরাং তোমরা জানাজা নিয়ে চিন্তা করবে না। কিন্তু আমরা হেফাজতির কাছে যাব না এই কথা নিশ্চিত থাকো।

তিনি আরও বলেন,স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিন আমার রাজনৈতিক কর্মীরা পরিশ্রান্ত ছিলেন। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীও পরিশ্রান্ত ছিলেন বলে আমরা ধরে নেব। তারা অনেক পরিশ্রম করেছেন, সেটা আমরা অস্বীকার করব না। কিন্তু তারপরও তাদের কাছে খবর থাকা বা প্রস্তুতি থাকা উচিত ছিল; যদি কোনো অন্তর্ঘাতমূলক কাজ হয়, তার মোকাবিলা করা।
স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব পালনের সভায় আমি প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে; মৌলভী সাহেবদের সঙ্গে একটু কথা বলা দরকার। তারা কীভাবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করবেন, সে সম্পর্কে আমাদের কোনো পরামর্শ বা তাদের কোনো পরামর্শ থাকলে শোনা দরকার। কারণ আমি জানি তারা এ ধরনের কাজে (তাণ্ডব) অভ্যস্ত। তারা কোনো আইনশৃঙ্খলার ধার ধারেনা।

এসময় এমপি আরও বলেন, ‘অনেকে আমাকে দোষারোপ করার চেষ্টা করছেন। নিজেদের অপারগতা-ব্যর্থতা ঢাকতে তারা এখন আমার ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছেন। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বললাম,আমি কোনো উস্কানিমূলক কথা বলেনি। কেউ যদি দেখাতে পারেন আমি কোনো কথা উস্কানিমূলক বলেছি, আমি বিচারের সম্মুখীন হতে রাজি আছি। আমি ৭০ বছর জীবনে বহু হরতাল দেখেছি। হরতালে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা হতে কোনোদিন দেখেনি। অথচ হেফাজতের হরতালে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বাড়িসহ দলীয় বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা করা হলো। ভূমি অফিসে হামলা করা হলো।’

তিনি বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভূমিদস্যুদের এক সিন্ডিকেট আছে। এই হামলার পেছনে যদি তারাও থেকে থাকে, এর দায় হেফাজতকেই নিতে হবে। অথচ হেফাজত প্রেস কনফারেন্স করে আমার বিচার চেয়েছে, আমাকে গালাগাল করেছে কিন্তু তদন্ত দাবি করে নাই।’

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তাজ মোহাম্মদ ইয়াছিন, মুজিবুর রহমান বাবুল, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার, যুগ্ম-সম্পাদক মাহবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম ভূইয়া প্রমূখ।

digital

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *